Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি, বাড়ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি, বাড়ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে লিথুয়ানিয়ায় জার্মান সেনা মোতায়েন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াসের নির্দেশে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম দফায় কয়েক শ সেনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এই দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির প্যানজারব্রিগেড ৪৫ ‘লিটাউয়েন’ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডটির প্রয়োজনীয় পদগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও লজিস্টিকস কর্মীর মতো দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে।

এই ঘাটতি পূরণে আগে স্বেচ্ছাসেবার ওপর জোর দেওয়া হলেও এখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিগেডটির প্রায় ২০ শতাংশ পদ এমন বাধ্যতামূলক নিয়োগের আওতায় পড়তে পারে। তবে জার্মান সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির এই সামরিক উপস্থিতি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জার্মানি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ সেনা এবং প্রায় ২০০ বেসামরিক কর্মী নিয়ে একটি স্থায়ী সামরিক ব্রিগেড গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। পুরো ব্রিগেডের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের পর ন্যাটো পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকে ঘিরে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির নেতৃত্বে ন্যাটোর বহুজাতিক সামরিক উপস্থিতি ২০১৭ সাল থেকেই রয়েছে। ২০২৩ সালের ন্যাটো ভিলনিয়াস সম্মেলনের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানি সেখানে পূর্ণাঙ্গ একটি ব্রিগেড মোতায়েনের উদ্যোগ নেয়।

ন্যাটো জানিয়েছে, জার্মান ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এতে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি ও এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় বড় পরিসরের সামরিক মহড়াতেও অংশ নেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত রোববার লিথুয়ানিয়ার আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যাওয়ার পর ভিলনিয়াস বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। পরে সেটি ড্রোন নয়, পাখির ঝাঁক বলে নিশ্চিত করা হয়। এর কয়েক দিন আগে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনাও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে।

জার্মান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ায় পূর্ণাঙ্গ জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণভাবে কার্যক্ষম হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে রাশিয়ার কাছাকাছি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে জার্মানির স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার নেবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার