বিজ্ঞাপন
স্বস্তি মিলল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের
ট্রাম্পের নতুন ভিসা নিয়ম আটকে দিল মার্কিন আদালত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থানের সময় সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নতুন বিধির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বিধিটি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে সোমবার এ আদেশ দেওয়া হয়। ফলে আপাতত প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ভিত্তিক ব্যবস্থা বহাল থাকছে।
বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলর শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের জোটের করা মামলায় এই আদেশ দেন। নতুন বিধি কার্যকরের এক দিন আগে আদালতের সিদ্ধান্তটি আসে।
বিচারক সেলর বলেন, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস ‘অত্যন্ত দুর্বল’ যুক্তির ভিত্তিতে নতুন নীতিটি গ্রহণ করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে ডিএইচএস নীতিটি পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল। তবে বিচারকের মতে, নীতি পরিবর্তন নিয়ে উত্থাপিত উদ্বেগগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। একই সঙ্গে কম ক্ষতিকর বিকল্প বিবেচনার যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, ডিএইচএস সেটিও পালন করেনি।
নতুন বিধির সমালোচনা করে ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা বা আইসিইকে ‘আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার এই লাগামহীন অপব্যবহার চলতে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্টুডেন্ট ভিসায় এসে প্রতি সেমিস্টারে একটি করে কোর্স করুন, আর দশকের পর দশক এখানে থেকে যান।’
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগ দেওয়া বিচারক সেলর তার রায়ে বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা বৈধ শিক্ষার্থী মর্যাদা বহাল থাকার সময়ের ভিত্তিতে ভিসা দিয়ে আসছে। নতুন বিধিটি দীর্ঘদিনের এই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছিল।
সেলর বলেন, দীর্ঘদিনের এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষক আসার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের কাজ বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অবদান রেখেছে। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন তিনি।
ডিএইচএস গত জুলাইয়ে যে নতুন বিধি গ্রহণ করেছিল, তার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের অবস্থানের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে যেত।
নতুন বিধিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এফ ভিসি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় আসা ব্যক্তিদের জন্য জে ভিসির সর্বোচ্চ মেয়াদ চার বছর নির্ধারণের কথা ছিল। সাংবাদিকদের জন্য আই ভিসির সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৪০ দিন। বর্তমানে এসব ভিসায় অবস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি থাকার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এফ ভিসায় এবং প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জে ভিসায় অবস্থান করছেন। বিচারক তার রায়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
সেলর বলেন, নতুন বিধি কার্যকর হলে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কয়েক শ কোটি ডলারের অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তার ভাষায়, ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির যে ক্ষতি হবে, তা বিপর্যয়কর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
মামলার বাদীপক্ষের অন্যতম সংগঠন প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লুম বলেন, বিচারকের আদেশে স্বীকার করা হয়েছে যে নতুন বিধি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ত।
তিনি বলেন, মামলাটি চলমান থাকলেও অন্তর্বর্তীকালীন এই আদেশ দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাকে বহাল রাখছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবীদের আকৃষ্ট করা, শিক্ষা দেওয়া এবং ধরে রাখার সুযোগ আপাতত অব্যাহত রাখতে পারবে।