বিজ্ঞাপন
পবিত্র মক্কায় হামলার বিরল সতর্কতা জারি সৌদির
উত্তেজনা বাড়ছে হুথিদের সঙ্গে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ সতর্কতা জারি করে রিয়াদ। তবে কিছুক্ষণ পর এটি আবার প্রত্যাহার করে নেয় দেশটি।
মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা এবং তাইফেও সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
হুথিরা গত কয়েকদিন সৌদির বিভিন্ন জায়গায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এরমধ্যেই মক্কায় এমন সতর্কতা জারি করা হলো। এটি ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী। এখানেই অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফ।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো মক্কায় এমন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যা আবার অল্প সময়ের মধ্যে তুলে নেওয়া হয়।
গতকাল ইয়েমেন থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ১৩ জন আহত হন। এরপর সৌদিও পাল্টা হামলা চালায়।
হুথিদের লক্ষ্য করে তিনশরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। গত পাঁচদিনে এ হামলাগুলো হয় বলে জানিয়েছে হুথিরা। সৌদি যদি হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা।
গতকাল সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথিরা বলেছে, সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং ইউরোফাইটার টাইফুন বিমানসহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান দিয়ে এসব হামলা চালিয়েছে তাদের বিমানবাহিনী।
গত দুই সপ্তাহ ধরে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণমাত্রার লড়াই শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় হুথিরা রাজধানী সানাসহ বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালানো শুরু করে। হুথিরা পিছু না হটায় ২০২২ সালে জাতিসংঘের নেতৃত্বে সৌদির সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর দীর্ঘসময় তাদের মধ্যে আর কোনো হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সম্প্রতি তাদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিটি অকার্যকর হয়ে গেছে।
সৌদির হামলার জবাবে তাদের খামিস মুসাইতের বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। আর এ হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। যেগুলো দিয়ে টার্গে করা হয়েছে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে এবং অস্ত্রভাণ্ডারকে।