Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্কে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার করে পাচ্ছেন বাসিন্দারা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ পিএম

নিউইয়র্কে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার করে পাচ্ছেন বাসিন্দারা

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৮২ লাখ পরিবারকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচের চাপ সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের এককালীন ভর্তুকির চেক দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এসব চেক ডাকযোগে পাঠানো শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে তা বিতরণ করা হবে।

গভর্নর ক্যাথি হকুলের প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘প্রটেক্টিং আওয়ার ওয়ালেটস এনার্জি রিবেট’ বা ‘পাওয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অঙ্গরাজ্য বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য মোট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮২ লাখ করদাতা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যয় বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা কমাতেই এই এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শরৎ ও শীতের মাসগুলো সামনে রেখে ঘর গরম রাখা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়ে, তখন এই অর্থ তাৎক্ষণিক কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

গভর্নর হকুল বলেছেন, নিউইয়র্কের অনেক পরিবার বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচের চাপে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সরাসরি মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে চাইছে।

আয়ের পরিমাণ ও কর দাখিলের ধরন অনুযায়ী চেকের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথভাবে কর দাখিলকারী দম্পতি বা দম্পতিদের মধ্যে যাদের ২০২৪ সালের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা ২০০ ডলার পাবেন। একই ধরনের করদাতাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে হলে তারা পাবেন ১৫০ ডলার। আর এককভাবে কর দাখিলকারী যাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা পাবেন ১০০ ডলার।

এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন বা নিবন্ধন করতে হবে না। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষের জন্য সময়মতো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুরো বছর নিউইয়র্কের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অন্য কারও কর রিটার্নে নির্ভরশীল ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।

চেকগুলো সরাসরি যোগ্য পরিবারের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ বিতরণ চলবে। ফলে সব যোগ্য পরিবার একই দিনে বা একই সময়ে চেক পাবে না।

নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবেই এই ১ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছে। মে মাসে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি জানায়, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে ‘পাওয়ার’ চেকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নিউইয়র্ক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিল কমাতে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি সরাসরি সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো, আবহাওয়াজনিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মতো কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এককালীন ১০০ থেকে ২০০ ডলারের অর্থ সহায়তা পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক ব্যয় কিছুটা কমাতে পারলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যের সমস্যার সমাধান করবে না। তাদের মতে, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপও প্রয়োজন।

নিউইয়র্কের পরিবারগুলোর জন্য জ্বালানি খরচ দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। রাজ্য সরকারও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বাজেটে ‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন প্ল্যান’ নামে একটি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যার লক্ষ্য ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা হলে তার একটি অংশ গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে।

নিউইয়র্কের নতুন কর্মসূচিটি অবশ্য প্রচলিত নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাসিক সহায়তা কর্মসূচি নয়। বরং নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা বিপুলসংখ্যক করদাতাকে একবারের জন্য সরাসরি অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ। রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৮২ লাখ নিউইয়র্কবাসী উপকৃত হবেন এবং মোট ১ বিলিয়ন ডলার মানুষের হাতে পৌঁছাবে।

চেক পেতে যোগ্য বাসিন্দাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে না হওয়ায় রাজ্য আশা করছে, অর্থ সহায়তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ফলে ঠিকানা বা করসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের রেকর্ড ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ও নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিং।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার