Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

কাবা ছুঁতে না পেরে কাঁদছিল ছোট্ট হাফেজ, পরে ছুঁয়ে ফেলতেই চোখে পানি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

কাবা ছুঁতে না পেরে কাঁদছিল ছোট্ট হাফেজ, পরে ছুঁয়ে ফেলতেই চোখে পানি

বিজ্ঞাপন

তুরস্কের মেরসিনের একদল তরুণ হাফেজের ওমরাহ পালনের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কাবা শরিফের সামনে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলা এবং পরে তাওয়াফ শেষে কাবার দেয়াল স্পর্শ করতে পারার দৃশ্য দর্শকদেরও আবেগাপ্লুত করেছে।

ঘটনাটি তুরস্কের মেরসিনে চালু হওয়া ‘হাফেজলার উমরেদে’ বা ‘হাফেজরা ওমরাহয়’ প্রকল্পের আওতায় পবিত্র ভূমিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের। মেরসিন প্রাদেশিক মুফতিশিপের সমন্বয়ে, তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগের সহযোগিতা ও দাতাদের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় অল্প সময়ের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করা ২০ জন সফল হাফেজ শিক্ষার্থীকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাত্র ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। একই সফরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনভিত্তিক ‘ওমরাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত যুব জ্ঞান প্রতিযোগিতা’য় ভালো ফল করা আরও চারজন শিক্ষার্থীও অংশ নেয়।

মক্কায় পৌঁছে কাবা শরিফের সামনে দাঁড়ানোর পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর আবেগ। তুরস্কের ইমাম-হাতিপ শিক্ষক ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত মুহাম্মদ দোগাচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও প্রকাশ করেন, সেখানে কয়েকজন ছোট হাফেজকে কাবা শরিফের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটিতে দেখা যায়, কাবা শরিফের দেয়াল স্পর্শ করতে না পেরে এক শিশু হাফেজ কাঁদছে। পরে তাওয়াফ শেষ করার পর কাবার দেয়াল স্পর্শ করার সুযোগ পেলে তার আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিশুটির চোখের পানি ও কাবা স্পর্শ করার মুহূর্তটি ভিডিওটি দেখেছেন এমন অনেকের মন ছুঁয়ে যায়।

মেরসিনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের কোরআন এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা। একই সঙ্গে তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে আত্মিক বিকাশে সহায়তা করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

ওমরাহ সফরের সময় শিক্ষার্থীরা মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন পবিত্র স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। মদিনায় মসজিদে নববীতেও তাদের শেষ পাঠ অনুষ্ঠিত হয় বলে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

মেরসিনের মুফতি মুস্তাফা তোপাল এই উদ্যোগে সহযোগিতা করা তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর, হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগ, স্থানীয় মুফতিশিপ, দাতাদের এবং প্রকল্পের সমন্বয়ক মুহাম্মদ দোগাচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী একটি আত্মিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।

কাবা শরিফের সামনে ছোট্ট হাফেজদের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি ১২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় অনুভূতি, শিশুদের সরল আবেগ এবং দীর্ঘদিনের হিফজ সম্পন্ন করার পর পবিত্র কাবা দেখার সুযোগ একসঙ্গে মিলে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচিত করে তুলেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার