Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ব্রিটেনে যৌন নিপীড়নের শিকার নারী অ্যাসাইলামপ্রার্থীরা, আশ্রয় হারানোর ভয়ে মুখ খুলছেন না

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ এএম

ব্রিটেনে যৌন নিপীড়নের শিকার নারী অ্যাসাইলামপ্রার্থীরা, আশ্রয় হারানোর ভয়ে মুখ খুলছেন না

বিজ্ঞাপন

ব্রিটেনে আশ্রয় নিতে আসা বহু নারী স্থানীয় ব্রিটিশ পুরুষদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কিন্তু নিজেদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার ভয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছেন না। সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ঠিক এমন এক সময়ে এই খবর প্রকাশ্যে এলো, যখন ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে যে 'যুদ্ধ করার বয়সী' পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীরাই নাকি স্থানীয় নারীদের ধর্ষণের জন্য দায়ী। গত সপ্তাহে ডোভার ও পোর্টসমাউথে হওয়া ডানপন্থীদের বিক্ষোভেও এমন ভিত্তিহীন দাবি তুলে ধরা হয়, যা আদতে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর হওয়া এই পদ্ধতিগত নিপীড়নকে আড়াল করার চেষ্টা বলেই মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

প্রতিবেদনে তিন জন নারী আশ্রয়প্রার্থীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে আসা এক নারী জানান, দুই বছর একটি অ্যাসাইলাম হোটেলে থাকার সময় সেখানকার এক কর্মী তাকে বারবার শারীরিক ও মৌখিকভাবে হয়রানি করেছে এবং এমনকি ডাটাবেজ থেকে নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত ফোনে অনৈতিক প্রস্তাবও দিয়েছে।

অন্য একটি ঘটনায়, ইরান থেকে আসা এক নারী হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে নিরাপত্তারক্ষী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে গেলে যদি তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়ে যায় বা সেখানকার পুলিশ যদি ইরানের মতো হয়, সেই ভয়ে তিনি কোনো অভিযোগই করেননি। তৃতীয় ঘটনাটি উগান্ডা থেকে আসা এক সমকামী নারীর, যিনি আইনজীবী নিয়োগের টাকা দিতে না পারায় সেই আইনজীবীর লালসার শিকার হতে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে এই তিন নারীকেই শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে উঠে এসেছে যে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীদের নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসের মতে, একটি হোটেলে এক নারী গোসল করার সময় কর্মীর জোরপূর্বক ঘরে ঢোকার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

'উইমেন ফর রিফিউজি উইমেন' এবং 'রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস'-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নারীদের ওপর সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বর্ণবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা আসল অপরাধীদের আড়াল করছে। হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার