বিজ্ঞাপন
প্রেমিকার পেছনে কোটি টাকা খরচ, ব্রেকআপের পর ফেরত চেয়ে আদালতে হেরে গেলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ এএম
বিজ্ঞাপন
সম্পর্ক চলাকালে সাবেক প্রেমিকার জন্য প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার খরচ করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চন্দর আগরওয়াল। পরে সেই অর্থকে সুদমুক্ত ঋণ দাবি করে সাবেক প্রেমিকা ফেলিশিয়া লির কাছ থেকে ফেরত চেয়ে সিঙ্গাপুর হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। তবে আদালত তার দাবি খারিজ করে দিয়েছে।
চন্দর আগরওয়াল ভারতের তালিকাভুক্ত পরিবহন ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান টিসিআই এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে ফেলিশিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেই সম্পর্কের অবসান ঘটে।
সম্পর্ক চলাকালে লির জন্য বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করেন আগরওয়াল। এর মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ডের প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের খরচ, বিদেশ ভ্রমণের জন্য প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, জীবনবীমার প্রিমিয়াম, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের সেবা এবং স্ট্যানফোর্ড-এনইউএসের একটি নির্বাহী শিক্ষাক্রমের প্রায় ৩০ হাজার ডলার ফি। যুক্তরাষ্ট্র ও হংকং ভ্রমণের প্রথম শ্রেণির বিমান টিকিট এবং কেনাকাটার খরচও তার দাবির মধ্যে ছিল।
আগরওয়ালের দাবি ছিল, এসব অর্থ তিনি উপহার হিসেবে দেননি; বরং লি এগুলো সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন এবং পরে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লি সেই দাবি অস্বীকার করেন। আদালতও আগরওয়ালের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি যে লি এসব অর্থকে ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন বা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন।
মামলার সময় একটি হাতে লেখা চুক্তির কথাও সামনে আসে। তবে আদালত সেটিকেও আগরওয়ালের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি। বিচারক উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর মধ্যে এমন স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যেখানে লি ওই অর্থগুলোকে ঋণ হিসেবে স্বীকার করেছেন বা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বরং আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সম্পর্কের শুরু থেকেই আগরওয়াল লির জন্য ব্যয়বহুল উপহার ও বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। বিচারকের মতে, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর আগরওয়াল এসব খরচকে নতুনভাবে ঋণ হিসেবে দাবি করেন। আদালত শেষ পর্যন্ত তার সব দাবি খারিজ করে দেয় এবং তাকে সাবেক প্রেমিকার আইনি খরচও পরিশোধের নির্দেশ দেয়।