Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ফুড স্ট্যাম্প হারিয়েছেন ৫০ লাখ, নতুন নিয়মে সামনে আরও বড় কাটছাঁটের শঙ্কা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ এএম

ফুড স্ট্যাম্প হারিয়েছেন ৫০ লাখ, নতুন নিয়মে সামনে আরও বড় কাটছাঁটের শঙ্কা

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাজেট আইনের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত এই পতনের হিসাব পাওয়া গেছে। একই সময়ে ১৫ লাখের বেশি শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর মধ্যেই আগামী ১ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটির প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে। ফলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে আরও চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ বা ১২ শতাংশ কমেছে। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর ও বিভিন্ন রাজ্যের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২০ সালের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা এত দ্রুত কমার নজির খুবই বিরল।

শিশুদের ক্ষেত্রেও পতনটি উল্লেখযোগ্য। যেসব ২৫টি রাজ্যের শিশুদের তথ্য পাওয়া গেছে বা রাজ্যগুলো তথ্য দিয়েছে, সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ লাখ শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সরকারি সংখ্যা নয়, বরং বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা একটি হিসাব।

সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমার পেছনে নতুন আইনের বিভিন্ন পরিবর্তন ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মসংক্রান্ত শর্ত কঠোর করা, যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন এবং সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি প্রশাসনিক বাধার বিষয় রয়েছে। তবে ফুড স্ট্যাম্পে অংশগ্রহণ কমার সবটুকু যে শুধু নতুন আইনের কারণে, এমন সিদ্ধান্তও টানা হয়নি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু রাজ্যে পতনের প্রবণতা আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল।

নতুন নিয়মে নির্ভরশীল সন্তান নেই এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কর্মসংক্রান্ত শর্তের আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে যে বয়সসীমার মধ্যে এই শর্ত প্রযোজ্য ছিল, সেটি বাড়িয়ে ৬৪ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে। বাবা-মা ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের দায়িত্বে থাকা কিছু মানুষের জন্যও আগের ছাড়ের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষকে ফুড স্ট্যাম্প ধরে রাখতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।

এর পাশাপাশি রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। বর্তমানে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয়ের অর্ধেক কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ২৫ শতাংশে নেমে যাবে এবং রাজ্যগুলোকে ৭৫ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে কর্মসূচিটির অর্থায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু প্রশাসনিক ব্যয় নয়, ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা প্রদানের ব্যয়েরও একটি অংশ রাজ্যগুলোর ওপর পড়বে। রাজ্যগুলোর সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হারের ওপর ভিত্তি করে অধিকাংশ রাজ্যকে মোট সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে হতে পারে। এই পরিবর্তন রাজ্যগুলোর বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে।

সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের হিসাবে, ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ রাজ্যকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হতে পারে। অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ বছরে কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। রাজ্যগুলোর ভুলের হার যত বেশি হবে, তাদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপও তত বাড়বে।

ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা বড় মাত্রায় কমেছে। অ্যারিজোনায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫৪ শতাংশ কমেছে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য জানিয়েছে। লুইজিয়ানা ও নেভাদায় কমেছে ২১ শতাংশ করে। ফ্লোরিডায় কমেছে ২০ শতাংশ এবং ওকলাহোমায় ১৯ শতাংশ।

এই পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারানো মানুষের একটি অংশ খাদ্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। তবে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, খাদ্য ব্যাংকের পক্ষে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির মাধ্যমে যে পরিমাণ সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার পুরো ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে পূরণ করা সম্ভব নয়।

ফুড স্ট্যাম্পের ব্যয় রাজ্যগুলোর ওপর স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন কংগ্রেসের প্রতি পরিবর্তনগুলো পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে রাজ্যগুলো সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনতে পারে। এতে যোগ্য ব্যক্তিরাও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচি এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সুবিধা কমে যাওয়ার পর সামনে রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের বড় অংশ চাপছে। এর সঙ্গে কঠোর কর্মশর্ত এবং ২০২৭ সাল থেকে সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের অংশ রাজ্যগুলোর ওপর যাওয়ার বিধান যুক্ত হওয়ায় খাদ্য সহায়তা থেকে আরও মানুষ বাদ পড়বেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার