Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর নীতির মধ্যেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডা। বিশ্বের মেধাবী গবেষক ও উচ্চশিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত স্টাডি পারমিট প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।

কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কানাডায় আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার পাবলিক ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনে মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার, অর্থাৎ PAL বা TAL জমা দিতে হচ্ছে না। তবে কুইবেকে পড়তে চাইলে প্রদেশটির নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।

ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও দ্রুত প্রসেসিংয়ের সুবিধা। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যোগ্য PhD শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার যাচাই করার পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রসেস করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সঙ্গে যাওয়া স্বামী বা কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আবেদনও এই দ্রুত প্রসেসিংয়ের আওতায় আসতে পারে।

তবে এই দুই সপ্তাহের প্রসেসিং সুবিধা সব গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য নয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাস্টার্স, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট দ্রুত প্রসেসিং সুবিধা পাবেন না। অসম্পূর্ণ আবেদন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা মেডিকেল যাচাই প্রয়োজন হলে প্রসেসিং সময়ও বেড়ে যেতে পারে।

কানাডা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থার সামগ্রিক আকার কমাচ্ছে। ২০২৬ সালে দেশটি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে নতুন শিক্ষার্থী ও কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের পারমিট এক্সটেনশন উভয়ই রয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় আসার সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৪০৫, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এই নীতির মধ্যেই কানাডা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য PAL বা TAL ছাড়া স্টাডি পারমিট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪৯ হাজার স্টাডি পারমিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কানাডায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় বা সবার জন্য নিশ্চিত নয়; প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম অন্যান্য নন-ডিগ্রি প্রোগ্রামের তুলনায় ভিন্ন।

কানাডা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কানাডায় মাস্টার্স বা PhD করার পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার