Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য, পরে কক্ষে ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য, পরে কক্ষে ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ

বিজ্ঞাপন

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর পদত্যাগ করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম। শুক্রবার পুলিশি নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তিনি দাবি করেন, স্বেচ্ছায় নয়, আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তার চলে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ কলেজ ভবনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। ঘটনাটি নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত কম উপস্থিতি নিয়ে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, তাদের সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং ক্লাসের সময় পরিবর্তনের কারণে তাদের উপস্থিতি কমেছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয় এবং শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষের কক্ষ ঘেরাও করে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, কম উপস্থিতির কারণে তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উপস্থিতির নিয়ম মানা প্রয়োজন। এ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হলেও বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর শুক্রবার উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম কলেজ থেকে বের হন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল এবং আলো, ফ্যানসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পানি ও খাবারের মতো মৌলিক সুবিধা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি সময়মতো সহায়তা পাননি।

পদত্যাগপত্রে পরিবার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ থাকলেও কলেজ থেকে বের হওয়ার পর তারান্নুম বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। আন্দোলনের চাপের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্যই তারা আন্দোলন করেছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কৌস্তভ বাগচীও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

এদিকে উপাধ্যক্ষ কলেজ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ ধূপ জ্বালিয়ে ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে কলেজ ভবনের কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। এই কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে কলেজে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখালেও ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকেই কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে উপাধ্যক্ষকে উদ্ধারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি। শুক্রবার সকালে উপাধ্যক্ষের পক্ষ থেকে ই-মেইল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ, কলেজে ক্লাসের পরিবেশ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উপাধ্যক্ষের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন বৃহত্তর প্রশাসনিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তদন্তের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে উপাধ্যক্ষের জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার