বিজ্ঞাপন
সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা।
তাদের ভাষ্য, শারুরাহ ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের লড়াই তীব্র হয়েছে। নতুন করে ঘর ছাড়ছে হাজারো মানুষ।
বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত মধ্যরাতে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার কথা জানান। তবে অভিযানটি কবে চালানো হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।
চলতি সপ্তাহে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর শনিবার সরকারি বাহিনী লোহিত সাগরের বন্দরনগর মোখয় হুথিদের অবস্থানে হামলা চালানোর কথা জানায়। পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ এলাকাতেও হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, সেখানে হুথিদের অবস্থান ও ব্যারাক লক্ষ্য করে তিন দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে হুথিরা দাবি করেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের ‘শত্রু বিমান’ ১২৯টি হামলা চালিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষও শনিবার রাতে হুথিদের একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তের কাছের এলাকায় পড়ার কথা জানিয়েছে। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর বলেছে, এতে দুজন আহত হয়েছেন। একটি মসজিদ, কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আগে এক সপ্তাহ ধরে বড় ধরনের অভিযান চালায় হুথিরা। এর শেষ পর্যায়ে তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বাকি অংশ এবং কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপ দখল করে নেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
ইরানের মিত্র হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দাব এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হয়ে উঠেছে।
এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে খবর এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা স্তিমিত থাকলেও জুলাইয়ে তা আবার তীব্র হয়। সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে যুদ্ধে যুক্ত হয়। এখনো তারা এডেনভিত্তিক সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
নতুন লড়াইয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা শনিবার জানিয়েছে, জুলাই থেকে ৭৬ হাজার মানুষ সংঘাতের কারণে ঘর ছেড়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই সংখ্যা চার গুণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার মোখা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর অনেক বাসিন্দা এডেনে চলে যায়। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ জিবুতিতেও পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালে।
উভয় পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
শনিবার ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তিনি সৌদি আরবের কার্যত শাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হুথিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না। তবে ওয়াশিংটন পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
২০২৫ সালে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহ ধরে গোষ্ঠীটির ওপর বোমা হামলা চালিয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে হুথিরা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো অব্যাহত রাখে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার পর তারা লোহিত সাগরে জাহাজে আবার হামলা শুরু করেছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এদিকে হুথি-সমর্থকেরা ২১০ বন্দির মুক্তি উদ্যাপন করেছেন। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া এলাকায় আটক এসব বন্দীর কেউ কেউ আট বছর পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।