বিজ্ঞাপন
কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন তথ্যচিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ দাবি নির্মাতাদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ এএম
বিজ্ঞাপন
কানাডাকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি প্রগতিশীল মডেল হিসেবে তুলে ধরা হলেও, নতুন একটি ডকুমেন্টারি সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ নামের এই ডকুমেন্টারির নির্মাতারা পুরো কানাডা ঘুরে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি কানাডীয় এবং ৭০ জনের বেশি নীতি বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, মাদকনীতি, ইমিগ্রেশন, অপরাধ ও সরকারি ব্যয় - এসব বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ডকুমেন্টারিটি।
ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তির ঘটনাও। নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরফের ওপর পড়ে তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর সার্জনের দেখা পেতে ১৫ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেন।
ডকুমেন্টারির পরিচালক মিরা মেটার জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে অপেক্ষা করার সময় ব্যথা কমাতে একাধিকবার মরফিন দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জনের কাছে পৌঁছানোর সময় কোমরের নিচের অংশে তিনি আর অনুভূতি পাচ্ছিলেন না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থায়ী স্পাইনাল কর্ড ক্ষতি হয়।
নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক পরে তাঁকে জানিয়েছিলেন, আঘাতের এক ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি করা সম্ভব হলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। তবে এই চিকিৎসা-সংক্রান্ত দাবি ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ওই ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে থাকেন। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য পেইন ক্লিনিকে চিকিৎসা পেতে তাঁর ১০ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে ব্যথার মাত্রা ১০-এর মধ্যে ১০ বলার পর তাঁকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং বা এমএআইডি-এর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে পরিচালক জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তি তখন প্রশ্ন তোলেন, তিনি মৃত্যুর সমাধান চাননি - তিনি শুধু ব্যথার চিকিৎসা চেয়েছিলেন।
ডকুমেন্টারির নির্মাতারা বলছেন, এই ঘটনা কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সংকটের একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তারা আবাসন ব্যয়, ইমিগ্রেশন, মাদকনীতি ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব বক্তব্য মূলত ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের বিশ্লেষণ ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে - এগুলোকে কানাডার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
পরিচালক মিরা মেটার বলেন, দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে কথা বলেও তারা একই ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন - বাড়ি কেনার সামর্থ্য, মাসের খরচ চালানো, প্রয়োজনের সময় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং ফ্যামিলি ডক্টর পাওয়া যাচ্ছে কি না।
‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ ডকুমেন্টারিটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ সেপ্টেম্বর সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়ার কথা। পরে ২৬ অক্টোবর অ্যামাজন প্রাইমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।