বিজ্ঞাপন
কিয়ার স্টারমারের আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী মুসলিম নারী
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উপনির্বাচন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ এএম
বিজ্ঞাপন
সোমালিয়া থেকে শিশু শরণার্থী হয়ে যুক্তরাজ্যে আসা সাগাল আবদি-ওয়ালি এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উপনির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছেড়ে দেওয়া হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে আগামী ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪২ বছর বয়সী এই মুসলিম নারী। তিনি বর্তমানে লন্ডনের ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতা।
১৯৯০-এর দশকে শিশু অবস্থায় সোমালিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন আবদি-ওয়ালি। স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে এক দশকের বেশি সময় বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক ও ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালে লেবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় দলীয় শাখার চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতা নির্বাচিত হন।
লেবারের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আবদি-ওয়ালি বলেন, নির্বাচনী প্রচারে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেবেন তিনি। শরণার্থী হিসেবে তাঁর পরিবার যে এলাকায় আশ্রয় ও সহযোগিতা পেয়েছিল, সেই এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আবদি-ওয়ালি বলেন, শরণার্থী হিসেবে তাঁর পরিবারকে এই এলাকা স্বাগত জানিয়েছিল এবং সবচেয়ে কঠিন সময়ে আশা দেখিয়েছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর, স্কুল গভর্নর ও সমাজকর্মী হিসেবে এখানকার মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ক্যামডেনের দুটি স্কুলের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন আবদি-ওয়ালি। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর কাজের মধ্যে আবাসন সংস্কার, গৃহহীনতা মোকাবিলা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড কমানোর উদ্যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে লেবার পার্টি।
স্টারমার ২০১৫ সাল থেকে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর গত সপ্তাহে তিনি এমপি পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর আসনটিতে উপনির্বাচনের তারিখ ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
এই উপনির্বাচনে লেবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে গ্রিন পার্টি। দলটির নেতা জ্যাক পোলানস্কি ইতোমধ্যে আসনটির প্রার্থী হয়েছেন। ফলে স্টারমারের দীর্ঘদিনের আসনটিতে লেবার ও গ্রিন পার্টির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে স্টারমারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ১১ হাজার ৫০০-তে নেমে আসে। ওই নির্বাচনে গ্রিন পার্টি তৃতীয় অবস্থানে ছিল। বামপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু ফেইনস্টেইনও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন।
ফেইনস্টেইন এবার উপনির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচার থেকে গড়ে ওঠা ক্যামডেন পিপলস অ্যালায়েন্সও গ্রিন পার্টিকে সমর্থন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে লেবারের ভোটব্যাংকে গ্রিন পার্টির চাপ বাড়লেও পোলানস্কির কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে দলটির জনসমর্থন আবার বাড়ছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেবারের প্রার্থী হওয়ার আগে আবদি-ওয়ালিকে ঘিরে পরিচয়কেন্দ্রিক বিতর্কও তৈরি হয়। রিফর্ম ইউকের জিয়া ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সোমালিয়ায় জন্মের বিষয়টি তুলে ধরে মন্তব্য করেন। লেবার পার্টি ওই মন্তব্যকে সরাসরি বর্ণবাদী বলে সমালোচনা করেছে।
রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, লেবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত করতে যে প্রার্থীকে হলবর্নের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে, তিনি সোমালিয়ায় জন্মেছেন।
এদিকে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে লেবার ও গ্রিন পার্টি উভয়ই ব্যাপক প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লেবার জানিয়েছে, দলের মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যই আসনটিতে প্রচারে অংশ নিতে পারেন। গ্রিন পার্টিও বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে।
লেবারের উপনির্বাচন প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি লিয়াম কনলন আবদি-ওয়ালিকে ‘অসাধারণ স্থানীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, কাউন্সিলে আবদি-ওয়ালি আবাসন সংস্কার, গৃহহীনতা কমানো এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
লেবার স্থানীয় মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি ও আশাবাদ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে গ্রিন পার্টির প্রচারে জলবায়ু, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং গাজা-সংক্রান্ত নীতির মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
সোমালিয়া থেকে শিশু শরণার্থী হয়ে যে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন আবদি-ওয়ালি, সেই দেশেই স্থানীয় রাজনীতি পেরিয়ে এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। স্টারমারের ছেড়ে যাওয়া আসনে তাঁর এই প্রার্থিতা তাই লেবারের জন্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত অভিবাসন-পরবর্তী যাত্রাকেও সামনে এনেছে।