Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ এএম

আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার  ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

বিজ্ঞাপন

সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক ক্লোয়ি ডিলন অভিযোগ করেছেন, আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাসাইলামপ্রার্থীকে আটক করার ঘটনায় আইনি ও ডিউ প্রসেস নিয়ে উদ্বেগ জানানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ অভিযোগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন।

ডিলন ২০২২ সালে সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টে বিচারক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে এক কিশোর অ্যাসাইলামপ্রার্থী তাঁর আদালতে হাজির হন। আইসিই তাঁর অ্যাসাইলাম মামলা বাতিল করে তাকে এক্সপেডাইটেড রিমুভাল প্রক্রিয়ায় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিলন সেই পদক্ষেপে আপত্তি জানান এবং ওই ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেন।

এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই ওই কিশোরকে আটক করে বলে ডিলনের অভিযোগ। পরে তাঁর ফাইল পর্যালোচনা করে ডিলনের মনে হয়, ওই ব্যক্তি সম্ভবত একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর এবং তাকে সরাসরি এক্সপেডাইটেড রিমুভালে পাঠানো নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। একই দিন তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ই-মেইল করে সম্ভাব্য আইন ও ডিউ প্রসেস লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ জানান।

ডিলনের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ই-মেইল পাঠানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তিনি চাকরি থেকে বরখাস্তের নোটিশ পান। নোটিশে তাঁর চাকরি শেষ করার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আর্টিকেল ২ উল্লেখ করা হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

ডিলন দাবি করছেন, তাঁর বরখাস্ত ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের প্রতিশোধ। মামলায় তিনি হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন, প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী এবং অন্যান্য সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চেয়েছেন।

মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৩:২৬-cv-10143 এবং বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ, সির্স ওয়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

তবে বিচার বিভাগ ডিলনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিওজির একজন মুখপাত্র অভিযোগটিকে “patently false” বা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চলমান মামলা ও কর্মীসংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণত মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে বিভাগটি।

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কোর্ট ব্যবস্থায় চলমান বড় পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১২০ জনের বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে বলে বিচারকদের ইউনিয়ন দাবি করেছে। তবে বরখাস্তের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন হিসাব রয়েছে।

ডিলনের মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর করা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন সবসময় অনুমোদনের বিষয়ে বিচারকদের ওপর চাপ ছিল। ডিলনের দাবি, তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নজরে রাখছে। এটি অবশ্য মামলার অভিযোগ - আদালত এখনো এসব দাবি সত্য বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্ট ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং সেখানকার মামলাগুলো অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডিলনের মামলাটি তাই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালত, আইসিইর ইনফোর্চমেন্ট এবং বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার