Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় বড় অগ্রগতি, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সুখবর

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় বড় অগ্রগতি, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সুখবর

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত গ্রিন কার্ডধারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সেপ্টেম্বর মাসের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী-স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যক্রমের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য স্বামী, স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারীর জন্য এটি স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় এই পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য। কোনো গ্রিন কার্ডধারী তার স্বামী, স্ত্রী অথবা যোগ্য সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার জন্য আবেদন করলে সেই আবেদনের একটি অগ্রাধিকার তারিখ নির্ধারিত হয়।

সেপ্টেম্বর মাসের সরকারি ভিসা বুলেটিনে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ দেশগুলোর জন্য এই শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যক্রমের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬। এর অর্থ হলো, যেসব আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে, তারা অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চূড়ান্ত ভিসা প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বুলেটিনে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় এই পারিবারিক শ্রেণিকে চলমান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখের বাধা ছাড়াই যোগ্য আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। তবে এটিকে সরাসরি ভিসা নিশ্চিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ, আবেদন অনুমোদনের অবস্থা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং দূতাবাসের প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। ফলে শুধু ভিসা বুলেটিনে তারিখ এগিয়ে গেলেই প্রত্যেক আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার বা ভিসা পাওয়ার সময় একই হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। জুলাই মাসে সাধারণ দেশগুলোর জন্য চূড়ান্ত কার্যক্রমের তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৫। আগস্ট মাসে সেটি এক লাফে ২২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এগিয়ে যায়। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে তা আরও এক মাস এগিয়ে ২২ আগস্ট ২০২৬ করা হয়েছে।

এই অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গ্রিন কার্ডধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে পারেন। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ ছিল, তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে।

যেসব বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারী ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যদের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের নিজেদের আবেদনের অগ্রাধিকার তারিখ পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয় ভিসা কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা এসেছে কি না, প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা উচিত।

বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা, আর্থিক ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।

তবে আবেদনকারীদের মনে রাখা প্রয়োজন, ভিসা বুলেটিনের তারিখ ভবিষ্যতে আবার পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদনকারীর সংখ্যা বা ভিসার চাহিদা বেড়ে গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারিখ পিছিয়েও যেতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেও জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে তারিখে পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থানরত কোনো পরিবারের সদস্য যদি সেখানে থেকেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে চান, সে ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই প্রত্যেক আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের এই ভিসা বুলেটিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক অগ্রগতি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক পরিবার এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছে।

তবে ‘দ্রুত ভিসা নিশ্চিত’—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। বরং সরকারি তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, সংশ্লিষ্ট পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণিতে অগ্রাধিকার তারিখ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে এবং যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার