Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, গ্রিন কার্ডের আবেদন চলাকালে আইসের হাতে আটক

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, গ্রিন কার্ডের আবেদন চলাকালে আইসের হাতে আটক

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) আটক করেছে। তবে তাঁর আইনজীবীর দাবি, কর্মকর্তারা আসলে তাঁকে আটক করতে যাননি। অন্য একজনকে খুঁজতে গিয়ে ভুল পরিচয়ের কারণে তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে।

৪৬ বছর বয়সী হুয়ান জেরার্দো আলাতোরে মার্তিনেজকে গত ৩০ জুলাই ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কনওয়ে শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। আইনজীবী লিসা সেইফার্ট নিউজউইককে জানান, মার্তিনেজ সেখানে পূর্ণকালীন কাজ করতেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন।

সেইফার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্তিনেজ ২০০০ সালের বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাঁর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করেন।

আটকের আগের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে মার্তিনেজ ওই গ্যাস স্টেশনের বাইরে আইসের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখতে পান। পরে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা স্বীকার করেন যে ওই সময় কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেছেন।

মার্তিনেজের আইনজীবীর ধারণা, এর সঙ্গে তাঁর সম্প্রতি কেনা একটি রুপালি রঙের হোন্ডা গাড়ির বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। গাড়িটি তিনি আগের মালিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন, কিন্তু তখনও গাড়িটির নিবন্ধন নিজের নামে পরিবর্তন করেননি। সেইফার্টের মতে, আইস কর্মকর্তারা গাড়িটির খোঁজ করতে গিয়ে সেটির বর্তমান মালিক মার্তিনেজের কাছে পৌঁছে থাকতে পারেন।

তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি শুক্রবার জানায়, ৩০ জুলাই কনওয়েতে মার্তিনেজকে আটকের জন্য আইস একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। বিভাগটি তাঁকে অপরাধে দণ্ডিত অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্তিনেজ ২০১৬ সালে স্থগিত বা বাতিল হওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ২০২০ সালে একই অভিযোগে আবারও তাঁর সাজা হয়। ওই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পান করতে দেওয়া বা সরবরাহ করার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

তবে মার্তিনেজের আইনজীবী বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আদালতে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসের হেফাজতে রয়েছেন।

বর্তমানে মার্তিনেজ ওয়াশিংটনের টাকোমায় অবস্থিত নর্থওয়েস্ট আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। আগামী ৮ অক্টোবর তাঁর পরবর্তী আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আইনজীবী আশা করছেন, আদালত তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনা করে তাঁকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেবে।

মার্তিনেজের সহায়তায় অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযানও শুরু হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে মার্তিনেজকে কনওয়ের পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে তাঁকে মজা করে ‘কনওয়ের মেয়র’ বলে ডাকতেন, কারণ তিনি এলাকার অনেক মানুষকে চিনতেন এবং গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সময় নিয়মিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতেন।

প্রায় নয় বছর আগে মার্তিনেজের সঙ্গে পরিচয় হয় ওয়াশিংটনের বিগ লেকের বাসিন্দা টিম ফেরেলের। তিনি তাঁর বাড়িতে বাগানের কাজসহ বিভিন্ন কাজে মার্তিনেজকে নিয়োগ করেছিলেন। ফেরেল মার্তিনেজকে বুদ্ধিমান, বন্ধুবৎসল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আটকের পর তাঁকে আইনি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতেও ভূমিকা রাখেন।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লিন্ডসে ব্রুকস জানান, গ্যাস স্টেশনে মার্তিনেজের অনুপস্থিতি স্থানীয়দের চোখে পড়ছে। তাঁর ছেলে মার্তিনেজকে আটকের খবর শুনে কষ্ট পেয়েছিল বলেও তিনি জানান।

এদিকে আটকের পরও মার্তিনেজ মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। আটক কেন্দ্রে তিনি ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব তৈরি করেছেন বলে আইনজীবী জানান।

মার্তিনেজের মামলায় একদিকে তাঁর অতীতের ফৌজদারি দণ্ডের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তিনি যে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, সেটিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর পরবর্তী শুনানিতে এসব বিষয় কীভাবে সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সূত্র: নিউজউইক, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার