বিজ্ঞাপন
কুমিরের মাথা নিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী, অতঃপর...
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
বিজ্ঞাপন
ইতালির তুরিন শহরের ক্যাসেল বিমানবন্দরে এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে মমি করা একটি কুমিরের মাথা উদ্ধার করেছে দেশটির ফাইন্যান্সিয়াল পুলিশ ও শুল্ক বিভাগ। সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর দেহাংশ অবৈধভাবে বহনের অভিযোগে ওই ইতালীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে ছুটি কাটিয়ে ইস্তাম্বুল হয়ে তুরিনে পৌঁছান। কাস্টমস ও নিরাপত্তা তল্লাশি এড়াতে কুমিরের মাথাটি শুকিয়ে সাধারণ কাগজে মুড়িয়ে তার লাগেজে রাখা হয়েছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তুরিন বিমানবন্দরে ওই যাত্রীর ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে কুমিরের মমি করা মাথাটি উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পরে সেটি জব্দ করা হয়।
ইতালীয় অর্থ ও শুল্ক পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী বা তার দেহাংশ আমদানির অভিযোগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ইউরো জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত ওয়াশিংটন কনভেনশন বা সাইটিসের আওতায় বিভিন্ন বিপন্ন ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনুমোদন ছাড়া এসব প্রাণী বা তাদের দেহাংশ এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়।
গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে বিদেশি পশুপাখির অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সংগঠিত অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বিভিন্ন স্যুভেনির দোকানে শুকনো কুমিরের মাথা বিক্রি হতে দেখা যায়। পর্যটকদের অনেকে এগুলো স্মারক বা উপহার হিসেবে কিনে থাকেন। কিন্তু এসব বন্যপ্রাণীর দেহাংশ আন্তর্জাতিকভাবে পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও কাগজপত্র না থাকলে তা আইন লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে।