বিজ্ঞাপন
গ্র্যাজুয়েশন শেষেই বাড়ি কেনার সুযোগ! যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী ৫ শহরের তালিকা জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও গৃহঋণের খরচ বাড়লেও কিছু কলেজ শহরে তরুণ স্নাতক ও নতুন পেশাজীবীদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ২৩১টি আবাসন বাজারের মধ্যে ডেট্রয়েট, জ্যাকসন, পাইন ব্লাফ, ম্যাকম্ব ও পিওরিয়াকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পাঁচ কলেজ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রিয়েল্টর ডটকমের অর্থনীতিবিদেরা ২০২৫ সালে এসব এলাকার বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেন। যেসব বাজারে ১৫টির কম বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল, সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ থাকা ২৩১টি বাজারকে বাড়ির দামের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়।
তালিকায় দক্ষিণাঞ্চলের কলেজ শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ। পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ২০ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ১২ শতাংশ জায়গা দখল করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় জমি ও নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক কম। এসব এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিও ধীর এবং আগে নির্মিত বাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় আয়ের সঙ্গে বাড়ির দামের সামঞ্জস্য তুলনামূলক ভালো।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এই শহরটি তালিকায় থাকা সবচেয়ে বড় আবাসন বাজার। ডেট্রয়েট বিশ্ববিদ্যালয় মার্সি শহরটির শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ডেট্রয়েট। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটের পর ২০১৩ সালে শহরটি দেউলিয়া ঘোষণা করে। এরপর ডাউনটাউন পুনর্গঠন, নতুন বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শহরটির পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে রয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিসিসিপির রাজধানী জ্যাকসন। ২০২৫ সালে শহরটির বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি কম। জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি শহরের একমাত্র শীর্ষ পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারি ও ব্যবসায়িক খাতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শহরটির সংস্কৃতি, সংগীত ও শিল্পচর্চাও বাসিন্দাদের আকর্ষণ করে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরকানসাসের পাইন ব্লাফ। আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহরের জনসংখ্যা ৪৫ হাজারেরও কম। ২০২৫ সালে সেখানে বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৮০ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ এবং তুলনামূলক কম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরটির বাড়ির দাম এখনো জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় কম।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ম্যাকম্ব। পিওরিয়া থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছোট এই শহরের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ওয়েস্টার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে ম্যাকম্বে বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজার ১২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, সংগীত, খেলাধুলা এবং ছোট শহরের জীবনযাত্রা এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের পিওরিয়া। ব্র্যাডলি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শহরটিতে তরুণদের উপস্থিতি ও শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশ রয়েছে। ক্যাফে, ছোট দোকান, সংগীতের আয়োজন এবং হাঁটার উপযোগী বিভিন্ন এলাকা শহরটিকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচও এর অন্যতম সুবিধা। ২০২৫ সালে পিওরিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ ডলার।
রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, পিওরিয়ায় স্থানীয় কলেজ এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের নিয়োগদাতাদের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার আগেই স্থানীয় কমিউনিটি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। পড়াশোনা শেষে একই এলাকায় চাকরি নিয়ে থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আবাসন বাজারে বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রাথমিক বাড়ির সরবরাহ কম। বাড়ির দাম ও গৃহঋণের সুদের খরচ অনেক তরুণের জন্য বাড়ি কেনাকে কঠিন করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামের কলেজ শহরগুলো তরুণ স্নাতক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের পরিবার, সাবেক শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্তদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী কলেজ শহরগুলোর সুবিধা শুধু কম দামের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় চাকরির বাজার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কমিউনিটি সুবিধা একসঙ্গে থাকায় এসব শহর নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বসবাসেরও সুযোগ তৈরি করছে।