Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ জানিয়ে দুবার ফোন সৌদি যুবরাজের, ‘না’ করে দেন ট্রাম্প

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ জানিয়ে দুবার ফোন সৌদি যুবরাজের, ‘না’ করে দেন ট্রাম্প

বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেছেন। তবে সৌদি যুবরাজের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এক্সিওসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান হলো, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে না গিয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা বাড়ানো।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার যোগাযোগ করেন। তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সামরিক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সৌদি আরবের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার হুথিরা ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা দখলে নেয় এবং লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে এগিয়ে কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে হুথিদের অগ্রগতির পর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও নৌপথে বাধার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক ফ্রন্ট খুলতে চাইছে না। এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় আলোচনার জন্য সৌদি আরব সফর করেছেন।

মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশনায় মার্কিন বাহিনীর প্রধান মনোযোগ এখন ইরানকে মোকাবিলা করা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে। ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়ে আরেকটি যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে ওয়াশিংটন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অবস্থানও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে রিয়াদ জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুথিদের হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে। কিন্তু হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর পিছু হটার পরিস্থিতিতে এবার ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে ইয়েমেনে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবও হুথিদের হামলার মুখে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের অস্ত্র ও সামরিক পরামর্শ হুথিদের মোখা দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ইয়েমেনি, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। হুথিদের এই অগ্রগতি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সৌদি আরবকে সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার নীতি বজায় রাখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বর্তমান অগ্রাধিকার ইরান ও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। ফলে সৌদি যুবরাজের অনুরোধের পরও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: রয়টার্স, এক্সিওস

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার