Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর পরকীয়া কেলেঙ্কারি, নীরবতা ভাঙলেন গোপন প্রেমিকা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

নেতানিয়াহুর পরকীয়া কেলেঙ্কারি, নীরবতা ভাঙলেন গোপন প্রেমিকা

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ১৯৯৩ সালের আলোচিত সম্পর্কের ঘটনার তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ড. রুথ বার। ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকা বার এবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং তার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুর সময়ের পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন।

১৯৯৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ইসরায়েলের তৎকালীন একমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ওয়ানে সরাসরি সম্প্রচারে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর কথা স্বীকার করেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি লিকুদ পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন এবং রুথ বার ছিলেন তার কৌশলগত উপদেষ্টা।

ঘটনাটি সামনে আসে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর। নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারাকে ফোন করে জানানো হয়, তার স্বামীর সঙ্গে রুথ বারের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও টেপ রয়েছে এবং নেতানিয়াহু লিকুদ নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরে না দাঁড়ালে সেটি প্রকাশ করা হবে।

নেতানিয়াহু সরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি টেলিভিশনে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। তবে সেই কথিত ভিডিও টেপ কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনার পর রুথ বার কার্যত জনজীবন থেকে আড়ালে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের বর্তমান যুগ তখন ছিল না। ফলে কয়েক বছর পর তিনি আবার নিজের পেশাগত জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হন। মনোবিজ্ঞানী ও কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন।

৩৩ বছর পর এবারই প্রথম তিনি বিস্তারিতভাবে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার পেশাগত সম্পর্ক, সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং লিকুদে নেতানিয়াহুর দ্রুত উত্থান নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

বারের বক্তব্যের গুরুত্ব শুধু পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নয়। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার কৌশলগত দলটির একজন সদস্য ছিলেন বার। ফলে সে সময় নেতানিয়াহু কীভাবে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন এবং ভোটারদের কাছে তার ভাবমূর্তি কীভাবে তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বার জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্থান তখনই শুরু হয়েছিল, যখন লিকুদে প্রতিষ্ঠিত নেতাদের একটি অংশ তাকে হুমকি হিসেবে দেখছিল। ১৯৯২ সালের নির্বাচনে লিকুদ পরাজিত হওয়ার পর দলটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে নেতানিয়াহু দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু লিকুদের নেতৃত্ব পান এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই রাজনৈতিক উত্থানের প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল ও ভোটারদের আচরণ নিয়েও রুথ বার দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন।

বর্তমানে তার নতুন বই ‘ব্রেইন আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স’ প্রকাশিত হচ্ছে। বইটিতে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ব্র্যান্ডিং এবং রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের প্রভাব নিয়ে তার দীর্ঘ গবেষণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেই বই প্রকাশের সময়ই তিনি তিন দশকের নীরবতা ভেঙে পুরোনো সেই অধ্যায় নিয়ে কথা বললেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার