বিজ্ঞাপন
ময়লা দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা! চীনা রিফাইনারের ভিডিওতে তোলপাড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
বিজ্ঞাপন
চীনের গুয়াংডং প্রদেশের হুইঝৌ শহরের এক পেশাদার স্ক্র্যাপ-মেটাল রিফাইনার প্রায় দুই টন টেলিকম ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৯১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন। সোনাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ইউয়ান বা ২৯ হাজার মার্কিন ডলার। তাঁর এই প্রক্রিয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুরোনো সিম কার্ড ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ‘চাও’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি মূল্যবান ধাতু রিফাইনিংয়ের কাজ করেন। ২০ জানুয়ারি তিনি সোনা উদ্ধারের প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ সেটি দেখেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুরোনো সিম কার্ডসহ বিভিন্ন স্ক্র্যাপ রাসায়নিক দ্রবণে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এরপর ক্ষয়, রাসায়নিক বিক্রিয়া, পরিশোধন ও উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করার বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে সোনাযুক্ত অবশিষ্টাংশ আলাদা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন চাও।
তবে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৯১ গ্রাম সোনা শুধু সিম কার্ড থেকেই পাওয়া যায়নি। চাও জানিয়েছেন, তিনি প্রায় দুই টন স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়াজাত করেছেন, যার মধ্যে টেলিকম খাতের চিপ বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক উপাদান ছিল।
সিম কার্ড ও কিছু ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টে খুব অল্প পরিমাণে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ভালো হওয়া এবং সহজে ক্ষয় না হওয়ার কারণে ইলেকট্রনিক সংযোগস্থলে সোনা ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সিম কার্ডে থাকা সোনার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পেতে বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য প্রয়োজন হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোনো সিম কার্ড কেনাবেচার আগ্রহও বেড়ে যায়। অনেকেই পুরোনো সিম কার্ডে মূল্যবান ধাতু থাকার বিষয়টি জানতে পেরে এগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করেন।
তবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট রিফাইনাররা সতর্ক করেছেন, এটি কোনো সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতি নয়। সোনা উদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় বিপজ্জনক রাসায়নিক, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং নিয়ন্ত্রিত শিল্পপ্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দেখে ব্যক্তিগতভাবে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা গুরুতর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চাও নিজেও সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রক্রিয়া বাড়িতে অনুসরণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর প্রদর্শন মূলত শিল্প পর্যায়ের স্ক্র্যাপ রিফাইনিংয়ের উদাহরণ, পুরোনো সিম কার্ড থেকে সহজে সোনা তৈরির কোনো ঘরোয়া কৌশল নয়।