Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ এএম

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

বিজ্ঞাপন

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি।

পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।

তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি।

কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে।

কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি।

কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার