Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ওহাইওতে এক মাসের অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল মার্কিন মার্শালরা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

ওহাইওতে এক মাসের অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল মার্কিন মার্শালরা

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে খুঁজে বের করেছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। সংস্থাটির দাবি, এটি ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে অভিযানটি আগস্টজুড়ে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এক ছিল না। কিছু শিশু নিখোঁজ হয়েছিল পালিয়ে যাওয়ার কারণে, আবার কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অবহেলা, সম্ভাব্য মানব পাচার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয় ছিল। তদন্তকারীরা শিশুদের খুঁজতে ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের বাইরেও অনুসন্ধান চালান। কয়েকটি শিশুকে জর্জিয়া পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে বের করা হয়।

ইউএস মার্শাল সার্ভিসের নর্দার্ন ও সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়সহ বহু সংস্থা অংশ নেয়। আকরন, ক্লিভল্যান্ড, কলম্বাস ও টলিডোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও বিভিন্ন মামলায় সরাসরি কাজ করেছে।

অভিযানের একটি ঘটনায় কলম্বাস এলাকার দুই বোনকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনের একজনকে ২০২৪ সালের জুলাই এবং অন্যজনকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা কলম্বাস পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের খোঁজ শুরু করেন।

তদন্তের সূত্র ধরে লকবোর্নের একটি বাড়িতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে খুঁজে পান কর্মকর্তারা। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়িটির একটি শোবার ঘরের আলমারির মেঝের নিচে থাকা বেজমেন্টের একটি গোপন জায়গায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় মেয়েদের মাকে ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তের সময় পাওয়া অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরে ১৬ বছর বয়সী বোনটির অবস্থানও শনাক্ত করা হয়। তাকে কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুই বোনকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।

আরেকটি ঘটনায় টলিডোতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খুঁজে বের করা হয়। ১৮ আগস্ট তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, ওই কিশোরীকে আগে মানব পাচারের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। টলিডো পুলিশ এবং ইউএস মার্শালদের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ওহাইও ও মিশিগানে বিভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে।

পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেয়েটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে থাকতে পারে। টলিডোর একটি ঠিকানায় দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিশোরীটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই পুরো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয় বলে জানিয়েছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। শিশু ও পরিবারবিষয়ক সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব সহায়তার মধ্যে মানসিক আঘাত মোকাবিলায় পরামর্শ, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

অভিযানে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন আমান্ডা বেরি। ক্লিভল্যান্ডের এই নারী ২০০৩ সালে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন এবং ২০১৩ সালে পালিয়ে মুক্ত হন। পরে তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন।

অপারেশন মেরিডিয়ান শুরুর আগে বেরি ইউএস মার্শালদের দলের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে খোঁজার আহ্বান জানান। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, কর্মকর্তারা সেই পরামর্শ অনুসরণ করেই কাজ করেছেন।

ইউএস মার্শাল সার্ভিসের কর্মকর্তা মাইকেল ব্ল্যাক বলেন, তাদের সংস্থা সাধারণত পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে যে দক্ষতা ও অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে, একই সক্ষমতা নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।

তবে ৭৯ শিশুর উদ্ধারের সঙ্গে কতজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএস মার্শাল সার্ভিস কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, উদ্ধার হওয়া সব শিশু যে মানব পাচারের শিকার ছিল, এমন নয়। তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি ছিল, যার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া, নির্যাতন, অবহেলা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে।

ইউএস মার্শাল সার্ভিসের হিসাবে, আগস্টজুড়ে পরিচালিত অপারেশন মেরিডিয়ানে ৭৯ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ওহাইওতে এ ধরনের একক অভিযানে সর্বোচ্চ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা শুধু একটি নিখোঁজ মামলা সমাধান নয়, বরং তাদের আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়া ঠেকানোরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সূত্র: ইউএস মার্শাল সার্ভিস, সিবিএস নিউজ এবং ওহাইওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার