বিজ্ঞাপন
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে জানান, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।
ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের আওতায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমে জড়িত নির্দিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সরকার।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়, বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বীকৃত সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা তৈরি করছে।
বিশেষ করে পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ দুর্বল করে দিতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন বা উসকানির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্য একা এই পদক্ষেপ নেয়নি। একই দিনে ফ্রান্স ও কানাডাও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ বসতি-সম্পর্কিত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত কনস্যুলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করাই নতুন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার এবং হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।