বিজ্ঞাপন
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ এএম
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি চীনে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে রোবটদের নাচানাচি ও স্প্রিন্টের মতো নৈপুণ্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। তবে এই বিনোদনের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য এক সামরিক লক্ষ্য। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে সরাসরি সামরিক প্রশিক্ষণ মাঠে নিয়ে আসার তাগিদ দিচ্ছে।
শতাধিক চীনা সামরিক ক্রয় নোটিশ, গবেষণা ও সরকারি নথির ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষা খাত হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এদের মোতায়েনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে এই গবেষণায় অভাবনীয় গতি এসেছে।
বর্তমানে চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের নানা চাহিদার বিপরীতে রোবটগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি (এনইউডিটি)-এর গবেষকদের একটি ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শহুরে যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে এসব অত্যাধুনিক রোবট। পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে শত্রুর দখলে থাকা বহুতল ভবনে তল্লাশি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।
শুধু তাই নয়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নোরিনকোর তৈরি 'ফুসি' (Fuxi)-এর মতো হিউম্যানয়েড রোবটগুলো যেকোনো আবহাওয়ায় নজরদারি, টহল এবং বিপজ্জনক মিশনে অংশ নিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। মানুষের প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যেই মূলত রিমোট কন্ট্রোল ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই রোবটগুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানের বৈশ্বিক হিউম্যানয়েড রোবট চালানের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের দখলে, যা তাদের এই সামরিক রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য রোবট তৈরি নিয়ে কাজ করছে, তবে এক্ষেত্রে তারা চীনের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ড্রোনের মতো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাফল্য বিশ্বজুড়েই রোবট সেনার কদর বাড়িয়েছে।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার নিয়ে নৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করা কিংবা আত্মসমর্পণের সংকেত বোঝার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। এসব বাধা পেরিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে খুব শিগগিরই রণাঙ্গনে চীনা রোবট সেনার আধিপত্য দেখা যেতে পারে।