বিজ্ঞাপন
হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ে একযোগে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সংঘাতে একাধিক ফ্রন্ট একসঙ্গে সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তেহরান হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের সমন্বয় করে একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করছে।
জেরুজালেম পোস্টের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ভবিষ্যতে তা এড়ানো। ওই হামলায় হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ চালালেও একই সময়ে ইরানপন্থি অন্যান্য গোষ্ঠী বড় পরিসরে আলাদা ফ্রন্ট খুলতে পারেনি। নতুন পরিকল্পনায় শুরু থেকেই একাধিক ফ্রন্টকে একই অভিযানের অংশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রম যেন বিচ্ছিন্নভাবে না চলে, বরং সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।
ইসরায়েলি সামরিক মূল্যায়নে এরই মধ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সমন্বয় বাড়ার কথা বলা হয়েছে। আগস্টে জেরুজালেম পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়াচ্ছে।
নতুন কৌশলের পেছনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হামাসের ওই হামলার পর হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলেও শুরুতেই হামাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়নি। ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ও হিজবুল্লাহ হামাসের ওই অভিযানের সব বিস্তারিত তথ্য বা সঠিক সময় সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিল না।
এবার তেহরান সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে আগাম সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানপন্থি এই নেটওয়ার্কে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় একযোগে তাদের সক্রিয় করা হলে ইসরায়েলের ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি হতে পারে বলে ইসরায়েলি বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও ইরানের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর ইরাক ও ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট হামলার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এই সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় এসেছে।
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি কৌশলগত এলাকায় হিজবুল্লাহর টানেল নেটওয়ার্ক থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করে। হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের কাছে তাই ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী একই সময়ে সক্রিয় হলে সংঘাত শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তবে ইরান সত্যিই এমন একটি সমন্বিত হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, কিংবা এ ধরনের কোনো অভিযান বাস্তবে কবে বা কীভাবে হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট