বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কের নামের রহস্য কী? ২০০০ বছর আগের ইতিহাসে মিলবে উত্তর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ পিএম
বিজ্ঞাপন
আজকের নিউইয়র্ক সিটি এক বিশাল মহানগর। আকাশচুম্বী ভবন, টাইমস স্কয়ার, স্ট্যাচু অব লিবার্টি আর ব্যস্ত নগরজীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই শহরের অতীত অবশ্য অনেক পুরোনো এবং বেশ জটিল। নিউইয়র্ক নামটি কীভাবে এলো, তার পেছনে রয়েছে আদিবাসী লেনাপি জনগোষ্ঠী, ডাচ উপনিবেশ এবং পরে ইংরেজ শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস।
ইউরোপীয়দের আগমনের আগে বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে লেনাপি জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। ম্যানহাটন দ্বীপকে লেনাপিরা ‘Mannahatta’ নামে চিনত। আধুনিক গবেষণায় সেই সময়ের ম্যানহাটনকে ঘন বন, জলাভূমি, তৃণভূমি ও নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
১৬০৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ইংরেজ নাবিক হেনরি হাডসন বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে পৌঁছান। এরপর ডাচরা হাডসন নদী উপত্যকায় বাণিজ্যিক ঘাঁটি গড়ে তোলে। ১৬২৪ সালে ম্যানহাটন দ্বীপে ডাচ বসতি স্থাপন শুরু হয় এবং পরে এর নাম হয় নিউ আমস্টারডাম। নিউইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ আমস্টারডাম ছিল ডাচদের নিউ নেদারল্যান্ড উপনিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র।
তবে নিউইয়র্ক নামটি তখনও আসেনি।
১৬৬৪ সালে ইংরেজরা ডাচদের কাছ থেকে নিউ নেদারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৮ সেপ্টেম্বর নিউ আমস্টারডাম আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং শহরটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় নিউইয়র্ক। নামটি নেওয়া হয় জেমস, ডিউক অব ইয়র্কের নামে। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই এবং নতুন দখল করা ভূখণ্ডের অধিকারও তার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ম্যানহাটন কেনার গল্পটিও নিউইয়র্কের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, ১৬২৬ সালে ডাচরা মাত্র ৬০ গিল্ডারের বিনিময়ে ম্যানহাটন দ্বীপ কিনেছিল, যা পরে প্রায় ২৪ ডলারের সমান বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, সেই সময়কার জমির মালিকানা, লেনাপি জনগোষ্ঠীর ধারণা এবং ডাচদের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতিকে আধুনিক অর্থে একটি সরল ‘জমি কেনাবেচা’ হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরিক্ত সরলীকরণ হয়ে যায়।
নিউইয়র্কের ইতিহাসে ডাচ অধ্যায়ের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। শহরের অন্যতম পরিচিত এলাকা ও রাস্তার নামেও সেই সময়ের ছাপ রয়েছে। এমনকি ‘Wall Street’ নামটির পেছনেও ডাচ আমলের প্রতিরক্ষা দেয়ালের ইতিহাস রয়েছে।
পরবর্তী কয়েক শতকে নিউইয়র্ক দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বাণিজ্যকেন্দ্র ও অভিবাসীদের শহরে পরিণত হয়। ১৭৮৮ সালে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
তাই নিউইয়র্কের ইতিহাস কেবল একটি শহরের নাম বদলের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লেনাপি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ডাচ উপনিবেশ, ইংরেজ দখল এবং কয়েক শতকের নগর বিকাশ। নিউ আমস্টারডাম থেকে নিউইয়র্ক হয়ে আজকের বিশ্বনগরীতে পরিণত হওয়ার এই দীর্ঘ পথই শহরটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।