Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো

বিজ্ঞাপন

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের স্কুলে হিজাব বা ইসলামি রীতিতে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। আইনটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি সাংবিধানিক আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অস্ট্রিয়ার সংশোধিত স্কুলশিক্ষা আইনের ৪৩এ ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাত্রী স্কুলে ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা আবৃত করে এমন হেডস্কার্ফ পরতে পারবে না। তবে স্কুলের বাইরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়িতে শিক্ষা এবং স্কুলের বাইরে আয়োজিত শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

সরকারের ভাষ্য, আইনটির লক্ষ্য মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সমতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ওপর ধর্মীয় বা সামাজিক চাপ কমানো। ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও নিওসের জোট সরকার এই আইন প্রণয়ন করে। পার্লামেন্টে এটি পাস হওয়ার সময় ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টিও সমর্থন দেয়।

তবে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠন ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া বা আইজিজিও এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মতে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ তৈরি করছে এবং বিশেষভাবে মুসলিম ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা মনে করে, শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও এই পদক্ষেপ উল্টো সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আইজিজিও জানিয়েছে, নতুন আইনের কারণে কোনো ছাত্রী বা পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তারা আইনি সহায়তা দেবে। সংগঠনটি আইনটি সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

এর আগে অস্ট্রিয়ায় স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল। ২০২০ সালে দেশটির সাংবিধানিক আদালত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। আদালত তখন বলেছিল, ওই বিধান একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর শিশুদের আলাদাভাবে প্রভাবিত করে এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নতুন আইন নিয়ে আইজিজিওর করা আগের দুটি আবেদনও জুলাইয়ে আদালত গ্রহণ করেনি। তবে এর কারণ ছিল আইনটি তখনো কার্যকর না হওয়া। অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত জানায়, ১ সেপ্টেম্বর আইন কার্যকর হওয়ার আগে আবেদনকারীরা সরাসরি ওই আইনের আওতায় পড়ছিলেন না। ফলে তখন তাদের আবেদন করার আইনি যোগ্যতা তৈরি হয়নি।

আইন কার্যকর হওয়ার পর স্কুলগুলোতে নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার কোনো ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে এলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তা খুলে ফেলতে বলবে এবং ছাত্রী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। পুনরায় নিয়ম ভাঙলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আরও একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একাধিকবার নিয়ম ভাঙার পর শেষ পর্যায়ে অভিভাবকের ওপর ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। জরিমানা আদায় করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের বিকল্প কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, শিক্ষকদের ওপর এমন একটি নিয়ম কার্যকর করার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদের মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে চাপ বাড়তে পারে। বিরোধী গ্রিন পার্টির রাজনীতিক সিগি মাউরারও শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানোর সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারকেয়ার স্বীকার করেছেন, আইনটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তার দাবি, আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক পরামর্শ করেছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ভিয়েনায় এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার হিজাব, আমার পছন্দ’। আইনটির বিরোধীরা বলছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশু ও পরিবারের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অস্ট্রিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষ ৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের স্কুলগুলো পরবর্তী সপ্তাহে খুলছে। ফলে নতুন আইনটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জে আদালতের অবস্থান কী হয়, তা এখন নজরে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউ অ্যারা

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার