Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

স্পেনের কাছে ২৭ দিন ভাসা অভিবাসীবাহী নৌকায় ৮৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

স্পেনের কাছে ২৭ দিন ভাসা অভিবাসীবাহী নৌকায় ৮৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

বিজ্ঞাপন

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রায় ২৭ দিন ধরে ভেসে থাকা একটি অভিবাসীবাহী নৌকা থেকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। নৌকাটিতে থাকা ১২৮ জনের মধ্যে মাত্র ৪৪ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। যাত্রাপথে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে স্পেনের অভিবাসী সহায়তাকারী সংগঠন কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস। নিহতদের মধ্যে নারী ও একটি শিশুও ছিল বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধার কর্তৃপক্ষ বুধবার ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের গ্রান কানারিয়া দ্বীপের প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে নৌকাটির সন্ধান পায়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ সেখানে পৌঁছে নৌকাটি থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। তাঁদের সবাই পুরুষ এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে রেড ক্রসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পশ্চিম আফ্রিকার মালি ও সেনেগালের নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নৌকাটিতে পাঁচটি মরদেহও পাওয়া যায়। কিন্তু সমুদ্র ছিল অত্যন্ত উত্তাল। প্রায় ২০ নট গতির বাতাস এবং প্রায় আড়াই মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারকারীরা মরদেহগুলো নৌকা থেকে নামাতে পারেননি। জীবিতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াকেই তখন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে “৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার” কথাটি সঠিক নয়; ৮০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়নি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থাও ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে তাঁদের অনেকেই তীব্র পানিশূন্যতা ও দুর্বলতায় ভুগছিলেন। কেউ কেউ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। কয়েকজন বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রের পানি পান করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে উদ্ধার-পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্পেনের স্থানীয় জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকজনকে পানিশূন্যতা, দিশেহারা অবস্থা এবং সমুদ্রের পানি পান করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব তাঁদের শারীরিক অবস্থাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল।

নৌকাটি গাম্বিয়া থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল বলে জানা গেছে। স্পেনের অভিবাসী সহায়তাকারী সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি আগস্টের শুরুতে গাম্বিয়া ছাড়ে। যাত্রার সময় নৌকাটিতে ১২৮ জনের মতো মানুষ ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ সমুদ্রে থাকার পর নৌকাটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালেও তখন অধিকাংশ যাত্রী আর বেঁচে ছিলেন না।

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কামিনান্দো ফ্রন্তেরাসের হেলেনা মালেনো জানিয়েছেন, মোট ৮৩ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী এবং একটি শিশুও ছিল বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখনো সরকারি চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা নয়। কারণ যাত্রাপথে যারা মারা গেছেন তাঁদের অধিকাংশের মরদেহ সমুদ্রে হারিয়ে গেছে এবং তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত বা গণনা করা সম্ভব হয়নি।

এই কারণে ঘটনাটিকে সংবাদ প্রতিবেদনে “৮৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা” বা “৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার আশঙ্কা” হিসেবে উল্লেখ করাই বেশি নির্ভুল। নিশ্চিতভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকায় পাঁচটি মরদেহ দেখা গিয়েছিল এবং ৪৪ জন জীবিত উদ্ধার হন। বাকি ব্যক্তিদের কীভাবে এবং ঠিক কোথায় মৃত্যু হয়েছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পথটি ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসনপথ হিসেবে পরিচিত। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছোট ও অনিরাপদ নৌযানে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, খাদ্য ও পানির সংকট, নৌযানের ইঞ্জিন বিকল হওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়া এই পথে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনাও সেই ঝুঁকির ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক নেতা ফার্নান্দো ক্লাভিহো ঘটনাটিকে গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আটলান্টিক অভিবাসনপথে এমন প্রাণহানিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছাতে চাওয়া অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হয়ে রয়েছে।

ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—কেন এত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন ভয়ংকর সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলো কীভাবে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে মানব পাচারকারী চক্র ও অনিরাপদ নৌযানে যাত্রী পরিবহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার