বিজ্ঞাপন
এআই নজরদারি ক্যামেরা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্ষোভ
নির্বাচনের মাঠেও উঠছে নিষেধাজ্ঞার দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ক্যামেরা এখন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফ্লক’ নামের এই ক্যামেরা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬ হাজার সম্প্রদায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলাস্কা ছাড়া প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই এর কোনো না কোনো ব্যবহার রয়েছে। ক্যামেরাগুলো গাড়ির নম্বরপ্লেটসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব তথ্য খুঁজে দেখা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ভাগাভাগি করার সুযোগ দেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রযুক্তিটি অপরাধ তদন্তে কার্যকর। ফ্লক কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই ক্যামেরা নেটওয়ার্ক প্রায় ১০ লাখ অপরাধ তদন্তে সহায়তা করেছে এবং প্রায় ১০ হাজার নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, যথেষ্ট নজরদারি ও আইনি সুরক্ষা ছাড়া প্রযুক্তিটি ব্যাপক ব্যক্তিগত নজরদারির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
এই বিতর্ক এখন সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতেও ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের প্রার্থীরাই ক্যামেরাগুলোর ব্যবহার নিয়ে অবস্থান জানাচ্ছেন। কেউ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে, কেউ কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কথা বলছেন।
সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন হলো—কোনো ব্যক্তির গাড়ি কোথায় গেছে, কখন গেছে এবং কোন পথে চলেছে—এ ধরনের তথ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ বা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিনিময় হলে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত চলাচলের ওপর নজরদারির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক নিয়ম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে প্রযুক্তিটি অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফলে সামনে মূল প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, অপরাধ দমনে প্রযুক্তির সুবিধা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার—দুটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে।