বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদ এক বছরের সর্বোচ্চ
বাড়ি কেনায় চাপ বাড়াচ্ছে ঋণের খরচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ৩০ বছরের স্থায়ী মর্টগেজের গড় সুদ ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে উঠেছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের ৬ দশমিক ৫০ শতাংশের চেয়ে বেশি।
ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ সাপ্তাহিক তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের স্থায়ী মর্টগেজের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ১৫ বছরের স্থায়ী মর্টগেজের গড় হারও বেড়ে ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে উঠেছে।
বাড়ির ঋণের সুদ বাড়ার অর্থ হলো একই দামের বাড়ির জন্য ক্রেতাকে প্রতি মাসে বেশি টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সামান্য সুদের পার্থক্যও কয়েক দশকে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত খরচ তৈরি করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো পরিবার যদি বড় অঙ্কের ৩০ বছরের মর্টগেজ নেয়, তাহলে সুদের হার ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকার তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশের ওপরে গেলে মাসিক কিস্তির চাপ বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত কিস্তি নির্ভর করে ঋণের পরিমাণ, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর, ডাউন পেমেন্ট, কর ও বিমাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি। ১০ বছরের ট্রেজারি ফলন বাড়লে সাধারণত মর্টগেজ ঋণের সুদের হারেও চাপ পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বাজারে ফলন বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির ঋণের হারও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
মর্টগেজের উচ্চ সুদ এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার ইতোমধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে সামর্থ্যের সমস্যায় রয়েছে। বাড়ির দাম অনেক অঞ্চলে উচ্চ অবস্থানে থাকা এবং ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য বাজারে প্রবেশ কঠিন হচ্ছে।
একই সঙ্গে সীমিত আবাসন সরবরাহও সমস্যাটিকে জটিল করছে। অনেক বাড়ির মালিক পুরোনো কম সুদের মর্টগেজ ধরে রেখেছেন। ফলে তারা নতুন উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে অন্য বাড়ি কেনার ব্যাপারে অনাগ্রহী হতে পারেন। এতে বাজারে নতুন বাড়ির সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে।
উচ্চ সুদের আরেকটি প্রভাব হলো পুনঃঅর্থায়ন। যেসব বাড়ির মালিক আগের বছরগুলোতে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নিয়েছেন, তাদের জন্য এখন নতুন ঋণে যাওয়ার আর্থিক সুবিধা অনেক ক্ষেত্রেই কম হতে পারে।
তবে বাড়ির ক্রেতাদের জন্য একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—জাতীয় গড় সুদের হার কোনো ব্যক্তির চূড়ান্ত প্রস্তাবিত হার নয়। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান, ক্রেডিট ইতিহাস, আয়, ঋণের অনুপাত এবং ডাউন পেমেন্টের ওপর ব্যক্তিগত হার উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
মর্টগেজের হার বাড়লে শুধু ক্রেতাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না। বাড়ির মালিকেরা কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে অনিচ্ছুক হলে বাজারে লেনদেনের সংখ্যা কমতে পারে। আবার ক্রেতারা উচ্চ মাসিক কিস্তির কারণে অপেক্ষা করতে পারেন।
ফলে আবাসন বাজারে বিক্রি কমে যেতে পারে, নতুন নির্মাণের সিদ্ধান্ত ধীর হতে পারে এবং বাড়ির বাজারে সামগ্রিক গতিশীলতা কমতে পারে।
অর্থনীতির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আবাসন খাত নির্মাণ, ব্যাংকিং, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, মেরামত ও স্থানীয় সেবাসহ বহু খাতের সঙ্গেযুক্ত। তাই দীর্ঘ সময় উচ্চ মর্টগেজ হার থাকলে এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে সুদের হার ভবিষ্যতে কোথায় যাবে তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি, শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ট্রেজারি বাজারের পরিস্থিতি—সবকিছুই ভবিষ্যৎ মর্টগেজ হারে প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু বাড়ির বিক্রয়মূল্য নয়, পুরো ঋণের মেয়াদে মোট সুদ, কর, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ হিসাব করা।