Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইলন মাস্কের পরেই ২য় স্থানে বাঙালি : উপার্জন প্রায় ৮ হাজার কোটি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

ইলন মাস্কের পরেই ২য় স্থানে বাঙালি : উপার্জন প্রায় ৮ হাজার কোটি

বিজ্ঞাপন

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক কলকাতার শঙ্খ মিত্র। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ বেতনভোগী সিইওদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

বেশ কয়েক দিন ধরে খবরের শিরোনামে বার বার উঠে আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। সেখানে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হয়, পড়াশোনার বদলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা—এমন অভিযোগও উঠছে। সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক প্রাক্তনী বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ বেতনভোগী সিইওদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিলেন।

কলকাতার শঙ্খ মিত্র এখন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্কের ঠিক পরেই নিজের নাম রেখেছেন। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ বেতনভোগী সিইওদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

আমেরিকার রিয়্যাল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট ‘ওয়েলটাওয়ার’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শঙ্খের ২০২৫ সালে মোট প্রাপ্ত অর্থ ও বার্ষিক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২ কোটি ১১ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৭৬০ কোটি টাকা)। তবে ‘ওয়েলটাওয়ার’-এর ২০২৬ সালের প্রক্সি ফাইলিং অনুযায়ী, এই ৮২ কোটি ১১ লক্ষ ডলারের পুরোটাই তাঁর ব্যাঙ্কে জমা হওয়া বার্ষিক বেতন নয়। ২০২৫ সালে তাঁর মূল বেতন ছিল ১৩০ লক্ষ ডলার। মোট প্রাপ্ত অর্থের বাকিটা অর্থাৎ সিংহভাগই এসেছে শেয়ার-পুরস্কার (স্টক অ্যাওয়ার্ড) এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক ইনসেনটিভের মাধ্যমে। এই শেয়ার ও ইনসেনটিভ পাওয়ার বিষয়টি সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি ভাল ফল এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তপূরণের সঙ্গে যুক্ত। তাই এগুলিকে সংস্থার কাজে তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।

শঙ্খের এই সাফল্যের পথচলা ভারতের প্রথাগত উচ্চশিক্ষার সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। তিনি কোনও আইআইটি বা এনআইটি-র ছাত্র ছিলেন না। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পরে তিনি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক দুনিয়ায়। পরবর্তী কালে কলম্বিয়া বিজ়নেস স্কুল থেকে ‘অ্যাপ্লায়েড ভ্যালু ইনভেস্টিং’-এ এমবিএ করেন। সেখানে খুব ভাল ফল করা পড়ুয়াদের নিয়ে তৈরি ‘ডিন্‌স লিস্ট’-এ জায়গা পান তিনি।

তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল একটি অ্যাকাউন্টিং সংস্থা থেকে। পরবর্তী কালে তিনি ‘ফাইডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস’ এবং ‘সিটাডেল ইনভেস্টমেন্ট’ গ্রুপে অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। এর পর শঙ্খ ‘রিয়্যাল এস্টেট সিকিউরিটিজ়’ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পোর্টফোলিয়ো ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলান অন্য আরেকটি সংস্থায়।

২০১৬ সালে তিনি ‘সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট’ (ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস) হিসেবে ‘ওয়েলটাওয়ার’ সংস্থায় যোগ দেন। নিজের দূরদর্শিতা ও আর্থিক কৌশলের জোরে মাত্র চার বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২০ সালের অক্টোবরেই সংস্থাটির সিইও পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার ওই সংস্থা মূলত প্রবীণ নাগরিকদের আবাসন, পোস্ট-অ্যাকিউট কেয়ার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে। আবাসন, আর্থিক সুযোগসুবিধা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার এই বিশেষ মেলবন্ধনে শঙ্খের কৌশলগত নেতৃত্ব সংস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

আগেও যাদবপুরের বহু প্রাক্তনীই দেশ এবং দেশের বাইরেও নিজের সাফল্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে, একদিকে যখন রাজ্য রাজনীতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বেশ ‘বিতর্কিত’ জায়গায়, সেখানে শঙ্খের সাফল্য আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও এই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের সামনে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার