বিজ্ঞাপন
যে কারণে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম
বিবিসি বাংলা
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার দরুন নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গত চার বছরে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গড়ে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার টন করে স্বর্ণ তাদের রিজার্ভে যোগ করেছে, যা আগের দশকের তুলনায় দ্বিগুণ। চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাস গড়ে প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলার অতিক্রম করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলার ও ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তুলনায় স্বর্ণের মান দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকায় এটি মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি প্রধান ঢাল হিসেবে কাজ করে। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় চার হাজার ৯০০ ডলারে স্থির থাকতে পারে। ভূরাজনৈতিক সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার ও নিরাপদ ভল্টে স্থানান্তরের এই প্রবণতা আরও জোরদার হবে।
নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে তারা উত্তর আমেরিকা থেকে নিজেদের ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেন কোনো গুরুতর সংকট পরিস্থিতিতে মূল্যবান ধাতুটি দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা ডাচদের ৩১৩ টন স্বর্ণের বড় একটি অংশ এখন ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড-এর ভল্টে জমা হলো।
ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন জানান, প্রস্তুতি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ। বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় কোনো সংকটের সময় দ্রুত স্বর্ণ কেনাবেচার জন্য লন্ডনের চেয়ে নিরাপদ ও সুবিধাজনক স্থান আর নেই। ফলে যেকোনো বড় বৈশ্বিক ধাক্কা সামলাতে নেদারল্যান্ডস এখন থেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে বলে মনে করছে ব্যাংকটি।
শুধু নেদারল্যান্ডস নয়, ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে নিজ নিজ দেশের রিজার্ভ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা অন্যান্য দেশেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের সমস্ত স্বর্ণের রিজার্ভ দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর আগে ২০১৬ সালের মধ্যে জার্মানির বুন্ডেসব্যাংক নিউ ইয়র্ক ও প্যারিস থেকে প্রায় ২১৬ টনের বেশি স্বর্ণ নিজেদের দেশে স্থানান্তরিত করেছিল।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের মতে, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এসব সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করলেও এর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং সংকটকালে দ্রুত লিকুইডিটি বা নগদ অর্থ পাওয়ার বিষয়টিও বড় ভূমিকা পালন করে। ডাচরা প্রায় ৫৯ টন স্বর্ণ নিউ ইয়র্কে বিক্রি করে একই সময়ে লন্ডনে সমপরিমাণ স্বর্ণ কিনে লজিস্টিক ঝামেলা এড়িয়েছে, আর বাকি ২৭ টন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে সরাসরি জাহাজে বা বিমানে পরিবহন করেছে।