বিজ্ঞাপন
১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, যুক্তরাজ্যে শিক্ষিকার বিচার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের একটি আদালতে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে এক শিক্ষিকার বিচার চলছে। অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা নিজের পেশাগত অবস্থান ও ছাত্রের প্রতি থাকা আস্থার সুযোগ নিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
৩০ বছর বয়সী ব্রনওয়েন জেমস উইল্টশায়ারের চিপেনহ্যাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি হ্যাম্পশায়ারের সাউদ্যাম্পটনের বিটার্ন পার্ক স্কুলের শারীরিক শিক্ষা (পিই) শিক্ষক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে শুনানির শুরুতে প্রসিকিউটর এডওয়ার্ড কালভার জুরিদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্রনওয়েন ওই ছাত্রকে বলেছিলেন যে তিনি তাকে ভালোবাসেন ও তার সঙ্গে অন্য কোথাও চলে যেতে চান।
তবে ব্রনওয়েন পুলিশের কাছে দেওয়া একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অন্য এক শিক্ষার্থী ওই ছাত্রকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলতে প্ররোচিত করেছিল। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আদালতে অভিযোগকারী ছাত্র সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলে, সে সবসময় জেমসকে ‘মিস’ বলে ডাকতেন। আদালতকে ওই ছাত্র জানায়, ব্রনওয়েন ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারের সুযোগ দিতেন। এমনকি, তিনি তার কোর্সওয়ার্কের মধ্যে ওই ছাত্রকে ভ্যাপও দিতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
ওই ছাত্র আরও বলেছে, সে তার পিই শিক্ষকের মাধ্যমে ‘গ্রুমড’ হয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ওই ছাত্র ব্রনওয়েনকে স্ন্যাপচ্যাটে যুক্ত করার অনুরোধ পাঠালে তিনি তা গ্রহণ করেন। এরপর তাদের মধ্যে ‘ফ্লার্টপূর্ণ’ বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়।
প্রসিকিউটর কালভার বলেন, ওই বার্তালাপের পর ব্রনওয়েন ছাত্রটিকে সাউদ্যাম্পটনের ওয়েস্টন শোরে গাড়িতে করে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ির ভেতর তারা চুম্বন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর ব্রনওয়েন ওই ছাত্রকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ও সেখানে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয় বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, এমন ঘটনা তিন থেকে চারবার ঘটেছিল।
কালভার তার বক্তব্যে বলেন, একবার ব্রনওয়েনের বাড়িতে যাওয়ার সময় উইম্বলডনের টেনিস খেলা চলছিল। তারা প্রথমে টেলিভিশনে খেলা দেখেন। এরপর তাদের মধ্যে চুম্বন ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর দুজনের মধ্যে যৌন কর্মকাণ্ড ঘটে ও একপর্যায়ে তারা সুরক্ষা ছাড়াই যৌন সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।
কালভার বলেন, ওই সময় ছাত্রটি নিজেকে ‘অভিভূত ও উত্তেজিত’ অনুভব করছিল।
আদালতে আরও জানানো হয়, ব্রনওয়েন ও ওই ছাত্র প্রতিদিন বার্তা আদান-প্রদান করতেন। ব্রনওয়েন তাকে নিজের যত্নের কথা বলতেন ও তারা একসঙ্গে বসবাস করতে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
কালভার বলেন, ওই শিক্ষিকা ছাত্রটিকে বলেছিলেন যে তিনি তাকে ভালোবাসেন ও তার সঙ্গে অন্য কোথাও চলে যেতে চান।
২০২২ সালের জুনে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, অন্য এক শিক্ষার্থী ওই ছাত্র ও ব্রনওয়েনের মধ্যে আদান-প্রদান করা হয়েছে বলে ধারণা করা কিছু বার্তার ছবি একজন শিক্ষকের কাছে দেখানোর পর বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
কালভার বলেন, ওই বার্তাগুলো থেকে তাদের মধ্যে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
আদালতে বলা হয়, ওই বার্তাগুলোতে ছাত্রটির পরিচয় গোপন রাখতে তাকে ‘নম্বর আট’ নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, সেখানে তাকে ব্রনওয়েনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানো অষ্টম পুরুষ হিসেবে দেখানোর ইঙ্গিত ছিল। ফোনের পর্দায় ব্রনওয়েনের একটি ছবিও দেখা যাচ্ছিল বলে আদালতে জানানো হয়।
জুরিদের ওই ছাত্রের কিছু ছবিও দেখানো হয়েছে। অভিযোগের সময় তোলা এসব ছবিতে তাকে ব্রনওয়েনের বাড়িতে তার পোষা কুকুরের সঙ্গে দেখা যায় বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
ওই ছাত্র জানায়, ব্রনওয়েন একটি পার্টি থেকে তাকে ফোন করেছিলেন। তখন তিনি একটি নাইটক্লাবে ছিলেন ও ফোনের পেছনে অন্য শিক্ষকদের কণ্ঠও শোনা যাচ্ছিল। ওই সময় ব্রনওয়েন তাকে ভালোবাসেন বলে জানিয়েছিলেন।
আমি ভেবেছিলাম তিনি আমার যত্ন নেন। আমি মনে করেছিলাম, এটা দারুণ। যে কোনো কিশোরের জন্য এটা স্বপ্নের মতো। কিন্তু এখন মনে হয় এটা ভুল ছিল। তখন আমি বিষয়টি এভাবে ভাবিনি, বলে ওই ছাত্র।
স্কুলে ওই বার্তাগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়েও আদালতে বক্তব্য দেন অভিযোগকারী। সে বলে, তখন তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।
ছাত্রটি জানায়, এ ঘটনায় ব্রনওয়েন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু তিনি স্কুলে ও শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তখনো জেমসের সঙ্গে তার যোগাযোগ চলছিল।
অন্যদিকে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্রনওয়েন কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। এর পরিবর্তে তিনি একটি লিখিত বিবৃতি দেন।
সেই বিবৃতিতে ব্রনওয়েন দাবি করেন, ওই ছাত্র কখনো তার বাড়িতে যায়নি। তার সঙ্গে ছাত্রটির কোনো যৌন সম্পর্কও ছিল না বলে তিনি অস্বীকার করেন। ব্রনওয়েনের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই তিনি অস্বীকার করেছেন। মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলছে।
সূত্র: বিবিসি