বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা ফেরত আনলো নেদারল্যান্ডস, কারণ কী?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গচ্ছিত রাখা ৮৬ টন সোনার মজুত লন্ডনে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডস। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে স্থানান্তরের এই পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক De Nederlandsche Bank (DNB) জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে থাকা স্বর্ণ আরও সহজে লেনদেন করা যায়। বিবৃতিতে ব্যাংকটি বলেছে, এর ফলে সংকটময় পরিস্থিতিতে DNB-এর পক্ষে সবচেয়ে দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে এ স্বর্ণ।
DNB-এর প্রেসিডেন্ট ওলাফ সেলেইজপেন বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের সোনার মজুতকে আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য করেছি। আমরা ধরে নিচ্ছি যে কখনোই আমাদের এই স্বর্ণ ব্যবহার করতে হবে না। তারপরও আমাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
ডাচ স্বর্ণের মজুত
DNB জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুত ছিল ৬১২ দশমিক ৪ টন। এর মূল্য ছিল ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো (৮৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
সোনা স্থানান্তরের আগে ডাচ ব্যাংকের মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ নিউইয়র্কে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ অটোয়ায় গচ্ছিত ছিল।
স্থানান্তরের পর এর হার অটোয়া-নিউইয়র্কে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, লন্ডনে রাখা সোনার পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
কীভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে?
DNB জানিয়েছে, পুরো ৮৬ টন সোনা সরাসরি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পরিবহন করা হয়নি। কিছু সোনা কেনাবেচার মাধ্যমে এবং কিছু সোনা সরাসরি স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি ভৌত সোনা নেদারল্যান্ডসে নিয়ে আসে। একই পরিমাণ সোনা নেদারল্যান্ডস থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এর ফলে আগে থাকা সোনার বারগুলো গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
কেন লন্ডনকে বেছে নেওয়া হলো?
ফ্রান্সে সোনা লেনদেনে সহায়তা করা প্যারিসভিত্তিক National Gold Counter-এর প্রেসিডেন্ট লোরাঁ শোয়ার্টজ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় এক দশক ধরেই তাদের সোনার মজুত বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অন্য জায়গায় সোনা রাখার দিকে উৎসাহিত করতে পারে।
লোরাঁ শোয়ার্টজের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তারল্যসম্পন্ন (liquid) বাজারগুলোর একটি লন্ডনের সোনার বাজার। ফলে সংকটের সময় সেখানে থাকা সোনা দ্রুত কাজে লাগানো সহজ।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সেখানে থাকা সোনা অন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে তুলনামূলক সহজে ঋণ দিতে পারে।
এর উদ্দেশ্য কী?
Cité Gestion Private Bank-এর বিশ্লেষক জন প্ল্যাসার্ড বলেন, ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে-কোনো সংকট দেখা দিলে সোনাকে আরও দ্রুত ব্যবহারযোগ্য করা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকও একইভাবে সোনা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করে তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জার্মানির ক্ষেত্রেও উদ্বেগ ছিল
বছরের শুরুতে জার্মানিতে নিউইয়র্কে রাখা তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার মজুতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে, শক্তিশালী জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক Bundesbank নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।
Bundesbank জানুয়ারিতে জার্মানির সরকারি টেলিভিশন ARD-কে বলেছিল, আমাদের স্বর্ণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণস্থল ছিল New York Fed এবং এখনও তা গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণস্থল হিসেবে রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান