বিজ্ঞাপন
নেপালের বন্যায় নিহত ৬৬৯, পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার আহ্বান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ এএম
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়াজনিত কারণে সাময়িক বন্ধ থাকার পর নেপালে আবারও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় নেপালে অন্তত ৬৬৯ জন নিহত হয়েছে এবং এখনো প্রায় ৩০০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
বন্যার স্রোতে তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনের তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত হবার খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদেশি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে নেপাল। দেশটির অর্থমন্ত্রী রয়টার্সকে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ে বুধবার পাহাড়ি নদীগুলোর ওপর দিয়ে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রচণ্ড স্রোত নেমে আসে। এ স্রোতে বহু ভবন, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গেছে।
তিনি আরও জানান প্রায় ৩,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে প্রায় ২ হাজার ৪২৬ জন এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ রয়েছে ৫৫৪ জন । নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক। [এদের অনেকেই ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রী।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর শনিবার বিকেলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হেলিকপ্টারগুলো উড়ছে এবং অভিযান আবার শুরু হয়েছে। বন্যার পর নেপাল-চীন সীমান্তে সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদ নেপালের লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীর দিকে উপচে পড়তে শুরু করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার পরিস্থিতির ঝুঁকি কিছুটা কমে আসে এবং হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দৃশ্যমান হয় বলে চীনা কর্তৃপক্ষ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, হ্রদের পানি ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং এর আকারও ক্রমশ ছোট হচ্ছে।
বন্যাকবলিত এলাকার উজানে থাকা দুটি হ্রদের মধ্যে এটি একটি, যেগুলো নেপাল পর্যবেক্ষণ করছে। একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, উভয় হ্রদের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে।
দুর্যোগের তিন দিন পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার করা কিছু মরদেহ এতটাই পচে গেছে যে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব মরদেহ দাফন করা হবে।
চিতওয়ান জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে এবং মরদেহগুলো খোলা জায়গায় দাফন করা হবে।
কাঠমান্ডুতে মহারাজগঞ্জ মেডিকেল ক্যাম্পাসের বাইরে জড়ো হয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে কয়েকটি মরদেহ নেওয়া হয়েছিল। অনেকেই ফটক ও সীমানাপ্রাচীরে টাঙানো মরদেহের ছবির মাধ্যমে স্বজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।