বিজ্ঞাপন
পাহাড়ে জমে আছে ৫০ লাখ ঘনমিটার পানি, বাঁধ ভাঙলেই মহাবিপদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ এএম
বিজ্ঞাপন
নেপালের পার্বত্য এলাকায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে তৈরি হয়েছে একটি বড় জলাধার। এরই মধ্যে সেখানে জমেছে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি। আগামী তিন দিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পানির পরিমাণ ৫০ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছাতে পারে। এতে অস্থায়ী বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে জলাধারটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবের বরাত দিয়ে চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন বা সিসিটিভি তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে সেখানে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে।
পানি বাড়লে ঝুঁকি কতটা
পানির পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে অস্থায়ী বাঁধের ওপর চাপও বাড়ছে। ফলে সেটি ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসাথে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে নদীর আশপাশের জনবসতি ও অবকাঠামো নতুন করে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কোথায় তৈরি হয়েছে জলাধারটি
নতুন জলাধারটি তৈরি হয়েছে নেপালের ছোটচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে। নদী দুটির উৎপত্তি তিব্বতে। পরে তারা একসাথে নেপালে প্রবেশ করেছে। নেপালে এই নদী ভোতে কোশি নামে পরিচিত।ভোতে কোশি নদী ত্রিশূলী নদীর ওপরের দিকের অন্যতম প্রধান উপনদী। ফলে নতুন তৈরি হওয়া জলাধারটির পানির গতিবিধি এবং বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আগের বন্যার পরই নতুন ঝুঁকি
নতুন জলাধার নিয়ে এই সতর্কতা এসেছে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার মাত্র এক দিন পর। বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তিমুরে এলাকার ওপর দিয়ে প্রবল স্রোত বয়ে যায়।ওই ঘটনায় সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যার পানি নদীর নিম্নপ্রবাহ ধরে ত্রিশূলী নদীর দিকে চলে যায়।
বর্তমানে দুর্গত এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। নদীর নিম্নপ্রবাহের কয়েকটি এলাকায় লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। আরও বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়কে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজেও বাড়ছে জটিলতা
নতুন জলাধার তৈরি হওয়ায় আগের দুর্যোগের পর চলমান উদ্ধার তৎপরতার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পানি নেমে আসতে পারে। এতে নদীর আশপাশের এলাকায় নতুন করে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানও আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাধারটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে পানির প্রবাহ ও নদীর পরিস্থিতি নিয়ে জলবিদ্যাগত বিশ্লেষণ চালানো হবে। সম্ভাব্য জরুরি উদ্ধার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট