বিজ্ঞাপন
হঠাৎ রাশিয়া সফরে সিআইএ প্রধান, নেপথ্যে কি?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা যোগাযোগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফর। রাশিয়ার একটি বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও কূটনৈতিক বহর দেখা যাওয়ার পর তার সফরের বিষয়টি সামনে আসে। তবে ওয়াশিংটন বা মস্কো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের কথা স্বীকার করেনি।
সফর সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে র্যাটক্লিফের সফরের উদ্দেশ্য, তার সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের পরিচয় কিংবা মস্কোয় সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি। সিআইএর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে মন্তব্য করা হয়নি।
সম্প্রতি মস্কোর একটি বিমানবন্দরে মার্কিন বিমানবাহিনীর বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার থ্রি পরিবহন বিমানের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই র্যাটক্লিফের সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ পরিচালক হিসেবে এটি র্যাটক্লিফের প্রথম রাশিয়া সফর হতে পারে। রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সফর সম্পর্কে অবগত সূত্রের দাবি, র্যাটক্লিফের মস্কো যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের রাশিয়া সফরের বিষয়টি জানিয়েছিল। প্রতিনিধি দল রওনা দেওয়ার আগ পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর হামলা স্থগিত রাখার জন্য কিয়েভকে অনুরোধও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে এই সফরের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা বা উদ্যোগ সরাসরি যুক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, পরিস্থিতি অনুযায়ী পুতিন ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের হিসাব পরিবর্তন করতে পারেন। এমনকি ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে সীমিত বা উসকানিমূলক পদক্ষেপের অনুমোদনও দিতে পারেন তিনি।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে সম্ভাব্য এসব পদক্ষেপের মধ্যে এমন সামরিক অভিযানও থাকতে পারে, যার দায় সরাসরি রাশিয়ার ওপর চাপানো কঠিন। এর মাধ্যমে ন্যাটো জোট এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কতটা দৃঢ় অবস্থান নেয়, তা যাচাই করার চেষ্টা করা হতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়ে আলোচনায় সিআইএর আগের ভূমিকার কথাও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বন্দি বিনিময় ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সংস্থাটির যোগাযোগের নজির রয়েছে।
গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন-রুশ দ্বৈত নাগরিক কেসনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় র্যাটক্লিফ নিজেও যুক্ত ছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গেরশকোভিচ এবং সাবেক মার্কিন মেরিন সদস্য পল হুইলানের মুক্তির প্রক্রিয়াতেও সিআইএর সম্পৃক্ততা ছিল।
সিআইএর সাবেক পরিচালক উইলিয়াম বার্নসও ২০২১ সালের নভেম্বরে মস্কো সফর করেছিলেন। সে সময় রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। এমনকি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান না চালানোর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি সতর্ক করেছিলেন বার্নস।
এই প্রেক্ষাপটে র্যাটক্লিফের বর্তমান মস্কো সফরকে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।