Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও ট্রাম্পকে যেভাবে বিপদে ফেলতে পারে কানাডা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও ট্রাম্পকে যেভাবে বিপদে ফেলতে পারে কানাডা

বিজ্ঞাপন

কানাডা তার মোট উৎপাদিত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণের প্রতিবেশী ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা এই বাণিজ্য বিরোধে কানাডার হাতে আসলে কী ধরনের চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে?

মেইন, মিশিগান ও উইসকনসিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যের পণ্যের প্রধান ক্রেতা কানাডা। আর ৫০টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪৫টির ক্ষেত্রেই কানাডা শীর্ষ তিন ক্রেতার একটি। ফলে বাণিজ্যযুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির হাতে কিছু কৌশলগত সুযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে কার্নি যে পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন তা কৌশলগতভাবে, ‘ডলার-ফর-ডলার’ এর ভিত্তিতে নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য- ইস্পাত, দুগ্ধপণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষিযন্ত্র, ইলেকট্রনিকস, পাল্প ও কাগজশিল্প। তবে তালিকাটি এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

জনমত জরিপগুলো বলছে, কানাডা সরকার যদি উল্টো পথে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় ধরনের ছাড় দেয়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কানাডীয় নাগরিক তাতে অসন্তুষ্ট হবেন।

একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও, যিনি কানাডায় ট্রাম্পের অন্যতম সোচ্চার সমালোচক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুল্কের হুমকি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

কানাডা যেসব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে, সেগুলোর কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো-

জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ

শনিবার (২২ আগস্ট) কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের বিপুল অংশই কানাডা সরবরাহ করে, পাশাপাশি দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় না, তারা চায় আমরা এসব জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিই।

বর্তমান পাল্টা ব্যবস্থার মধ্যে জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই বিকল্পটি বাতিল করা হয়নি। আবার সব প্রাদেশিক প্রিমিয়ারও এই চাপ প্রয়োগের পক্ষে নন।

এদিকে, কানাডার গাড়ি নির্মাণ শিল্পের বড় একটি অংশ অন্টারিও প্রদেশে অবস্থিত। বাণিজ্য বিরোধ কতটা দূর গড়াতে পারে, সে বিষয়ে প্রদেশটির প্রিমিয়ার ফোর্ড বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানির অতিরিক্ত মাশুলের বিষয়টি বিবেচনার টেবিলে রয়েছে।

২০২৫ সালে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত সব বিদ্যুতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এতে মিশিগান, মিনেসোটা ও নিউইয়র্কের ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রভাবিত হতো।

সার উৎপাদনে ব্যবহৃত পটাশসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যেরও বড় উৎস কানাডা। এই পণ্যের ক্ষেত্রে কানাডাই বিশ্বের শীর্ষ সরবরাহকারী।

ফোর্ড সোমবার বলেন, আমি দেখতে চাই (ট্রাম্প) তেল ছাড়া কীভাবে গাড়ি চালান। আমি দেখতে চাই পটাশ ছাড়া কীভাবে তিনি ফল ও সবজি উৎপাদন করেন।

লিথিয়াম, নিকেল ও গ্রাফাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজেরও উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে কানাডায়।

সামগ্রিকভাবে কানাডা থেকে রপ্তানি হওয়া খনিজের সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এটিও এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে অটোয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।

এ ক্ষেত্রেও ফোর্ডই সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্টারিও থেকে যুক্তরাষ্ট্র এক দানা বালুও পাবে না।

ক্রয়ক্ষমতা

কানাডা এরই মধ্যে দেখিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আগেই, গত বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফায় শুল্ক আরোপ করার পর এর জবাবে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশের মদের দোকানের তাক থেকে মার্কিন অ্যালকোহল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের এই শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

মার্কিন ওয়াইনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওয়াইন ইনস্টিটিউট এই পরিস্থিতিকে "কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার বিপর্যয়" বলে অভিহিত করে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় মার্কিন ওয়াইন রপ্তানি বছরে বছরে ৭৮ শতাংশ কমেছে। যার ফলে রপ্তানি মূল্যে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার (৪৯ কোটি ৪০ লাখ কানাডীয় ডলার; ২৬ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড) ক্ষতি হয়েছে।

ডিস্টিলারদের সংগঠনও প্রায় একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন প্রদেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন মদজাতীয় পানীয়ের রপ্তানি ৭০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

কানাডার ১৩টি প্রদেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে এই বয়কট এখনো কার্যকর রয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটা বড় ধরনের হতাশার কারণ।

যদিও অ্যালকোহল বয়কটের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে চালু হয়েছিল। তবুও সাধারণ কানাডিয়ানদের নেওয়া নানা স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্তও প্রতিবেশী দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা।

এপ্রিল মাসে সড়কপথে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিছুটা বাড়লেও, জাতীয় তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার আগে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ওই মাসে আট লাখ কানাডিয়ান কম সফর করেছেন।

ভ্রমণ বয়কটের ফলে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন বা ৩৩০ কোটি কানাডিয়ান ডলার (২.৩৫ বিলিয়ন বা ২৩৫ কোটি মার্কিন ডলার) রাজস্ব হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কানাডীয়দের আবার ভ্রমণে উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও অঙ্গরাজ্য বিশেষ বিজ্ঞাপন ও আকর্ষণীয় অফারের মাধ্যমে তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার