বিজ্ঞাপন
মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ইরান: রিপোর্ট
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত করার সম্ভাবনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) ইরানের পার্লামেন্টের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহদি রহিমির বরাতে বার্তা সংস্থা আল-মায়াদিন জানিয়েছে, ইরানকে এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে, ইরানকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে পাকিস্তান। গত ১২ আগস্ট মস্কোয় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল নিয়াজ তিরমিজি বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে করা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরান ও মিশর যোগ দিলে পাকিস্তানের কোনো আপত্তি নেই।
তিনি বলেন, এ চুক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক জোট’ নয়, বরং এর লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি কাঠামো তৈরি করা। শান্তি ও স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকে পাকিস্তান স্বাগত জানায়। প্রভাবশালী আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন নিয়াজ তিরমিজি।
পাশাপাশি, তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে এটি করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর জন্যও জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে, জোটে ইরানের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরান এ জোটে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাদের শঙ্কা, ইরান যোগ দিলে জোটটির চরিত্র বদলে যেতে পারে ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েল-মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কবিষয়ক গবেষক কেসনিয়া সভেতলোভার বলেছেন, ইরান চুক্তিতে যোগ দিলে জোটটির চরিত্রে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ আসবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্য কয়েকটি দেশ এমন পরিবর্তন মেনে নেবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া নতুন সমীকরণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ বলে দাবি করেন তিনি।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার ও সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে, চুক্তির আওতায় দেশগুলোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও সামরিক প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আল মায়াদিন