বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কলকাতার ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোড এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাঁচতলা ভবনটির হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে দুইজন ভারতীয় এবং সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শিখা ইন হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও যথাযথভাবে ছিল না। পাঁচতলা ভবনটিতে মাত্র একটি লোহার সিঁড়ি ও একটি লিফট ছিল। আগুন লাগার পর ভবন থেকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত নিরাপদ পথ না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ভবনটির তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় পরিচালিত শিখা ইন হোটেলটি দুই ভাগে ভাগ করে আলাদা ব্যক্তিদের কাছে লিজ দিয়েছিলেন মালিক বীরেশ্বর মিত্র। এর একটি অংশ আবু জাফর এবং অন্য অংশ উমেশ ও জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছিল।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উমেশ ও জিতেন্দ্র সিংকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এবার হোটেলটির মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবনের কাঠামো, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা এবং হোটেল পরিচালনার অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভবনে পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমনপথ ছিল কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে হোটেল পরিচালনা করা হচ্ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে আগুন লাগার পর হোটেলে থাকা অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভবন থেকে লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে অনেকে আটকা পড়ে যান।
এই ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় ও তাঁদের কলকাতায় যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছে। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হোটেলে আগুনের ঘটনায় নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি ভবনটির ব্যবহার ও লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় হোটেল মালিকসহ সংশ্লিষ্ট আরও কারও দায়িত্ব বা গাফিলতি পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্ত এখনো চলছে। আগুনের সঠিক কারণ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং নিহতদের মৃত্যুর জন্য কারও অবহেলা দায়ী ছিল কি না, তদন্ত শেষে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।