বিজ্ঞাপন
মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডে এত মৃত্যু কীভাবে?
ফরেনসিকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
বিজ্ঞাপন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির কারণ অনুসন্ধানে ফরেনসিক পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘিঞ্জি এলাকায় গড়ে ওঠা ‘শিখা ইন’ নামের ওই গেস্টহাউসে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এ ঘটনার পর কলকাতার হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফরেনসিকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হোটেলের তৃতীয় তলার রিসেপশনে থাকা এসির তার বা পোর্ট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এসির অংশবিশেষ ফুলে যাওয়ার পর সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য তারও বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। এরপর এসি থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়া দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১৯ তারিখ গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই পাঁচতলা ভবনটির তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। এসিতে আগুন লাগার পর দ্রুত পুরো তলায় কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল আটকেপড়াদের। ওই তলাতেই ছিলেন বাংলাদেশি এক সাংবাদিক, তার স্ত্রী, শিশু সন্তান ও বাবা। সাংবাদিকের বাবা ছিলেন একটি কক্ষে, আর অন্য কক্ষে ছিলেন সাংবাদিক ও তার পরিবার।
আগুন লাগার পর তারা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে প্যাসেজ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান ছিলেন রিসেপশনের পাশের একটি কক্ষে। তিনিও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তার বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এর আগে ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনার পর দেখা যায়, আগুন থেকে বাঁচার জন্য সেখানে কার্যত কোনও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। এমনকি গেস্টহাউসটির পেছনের জরুরি বের হওয়ার পথও দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ফলে আগুন লাগার পর হোটেল থেকে বের হতে না পেরে ৯ জনের শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার ও এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক মালিকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোররাতে কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। গভীর রাতে হোটেলটি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। ভেতরে আটকে পড়েন অনেক মানুষ। পরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হন।
অভিযোগ উঠেছে, হোটেলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণেই আগুনের পর পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় নিউমার্কেট এলাকার ৯টি গেস্টহাউস ও ৪টি রেস্তোরাঁ-বারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিস আইনের ৩৭এ ধারায় এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানের নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে মূলত তাদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কাছে জবাব সন্তোষজনক মনে না হলে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।