বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে জিসিএসই ফল প্রকাশ
কমল পাশের হার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে মাধ্যমিক পর্যায়ের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এ বছর সামগ্রিক পাসের হার টানা পঞ্চম বছরের মতো সামান্য কমলেও সর্বোচ্চ ফল পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে সরকার গণিত ও ইংরেজি ভাষায় বারবার পরীক্ষা দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিন অঞ্চল মিলিয়ে ৪ বা ‘সি’ সমমানের কিংবা তার বেশি গ্রেড পেয়েছে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছর এই হার ছিল ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ৭ বা ‘এ’ সমমানের কিংবা তার বেশি গ্রেড পাওয়ার হার ২১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারির সময়ের অস্থিরতা কাটিয়ে ফলাফল এখন ২০১৯ সালের অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।
দেশভিত্তিক ফলাফলে ইংল্যান্ডে পাসের হার ৬৭ শতাংশ, যা গত বছরের ৬৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে সামান্য কম। ওয়েলসে হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশে। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে পাসের হার সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশে।
এবার প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের কিছু শিক্ষার্থী সরকারি ডিজিটাল ফল সেবার মাধ্যমে সরাসরি নিজেদের ফল দেখতে পেরেছে। এর ফলে ফল সংগ্রহের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও সহজ হয়েছে।
ইংল্যান্ডে গণিত ও ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর এসব বিষয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ২৪ দশমিক ৩ শতাংশই ছিল পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া বা বয়স্ক শিক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
তবে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। গণিতে মাত্র ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ইংরেজি ভাষায় ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম পাসের মান অর্জন করেছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার গণিত বা ইংরেজিতে পাস না করলে পরবর্তী পড়াশোনার পাশাপাশি এসব বিষয় চালিয়ে যেতে হয়।
শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল বলেছেন, একই বিষয় বারবার পরীক্ষা দিতে হওয়ায় বহু শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার মাধ্যমিক যোগ্যতার নিচে নতুন একটি ‘ধাপভিত্তিক যোগ্যতা’ চালুর পরিকল্পনা করছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথ ধরে উচ্চশিক্ষা বা কারিগরি প্রশিক্ষণে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ব্যবস্থা চালু করা।
ফল প্রকাশ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, সাফল্যের একটিমাত্র পথ নেই। একাডেমিক শিক্ষা কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণ—যে পথই বেছে নেওয়া হোক, প্রত্যেক তরুণ-তরুণীর সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
ফল প্রকাশের দিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দ, স্বস্তি ও আবেগঘন মুহূর্ত দেখা গেছে। ডার্বির একটি বিদ্যালয়ে কনফেটি উড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। এক শিক্ষার্থী গণিতে পাস করে জানায়, এবার আর পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে না। আরেক শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষায় পাস করে আনন্দে কেঁদে ফেলে, কারণ এখন সে শিশু পরিচর্যা বিষয়ে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করতে পারবে।
সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ১৬ বছর বয়সী প্যাট্রিক ম্যাকক্যাব শুধু চোখের দৃষ্টিনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাতটি বিষয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন থেকে ওয়েলসে আশ্রয় নেওয়া এক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হয়ে নিজের দেশের পুনর্গঠনে কাজ করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছে।
ওয়েলসে এ বছর নতুনভাবে সংস্কার করা মাধ্যমিক পাঠক্রমের প্রথম ফল প্রকাশ হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো সমন্বিত যোগ্যতা ব্যবস্থার শেষবারের মতো ফল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এর পরিবর্তে নতুন দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু হবে।
ফল প্রত্যাশামতো না এলেও পুনর্মূল্যায়ন, পুনঃপরীক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ও উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার বিকল্প সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।