বিজ্ঞাপন
ইরানি হামলায় কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হল মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই রণতরীটির সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট দেখা দেয়। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন নৌঘাঁটিতে আঘাত হানে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে চালানো ওই হামলায় ঘাঁটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে কয়েক দশক ধরে মার্কিন নৌবাহিনী যে গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্রটি ব্যবহার করে আসছিল, সেটিও অকার্যকর হয়ে পড়ে।
ওই ঘাঁটি ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্র। যুদ্ধবিমানগুলোকে নিয়মিত হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাবার ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহে ঘাঁটিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ঘাঁটিটি ধ্বংস হওয়ার পর আব্রাহাম লিংকনসহ মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোতে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা নিতে হয় পেন্টাগনকে। এরই অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত একটি ঘাঁটিকে বিকল্প সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দিয়েগো গার্সিয়া মালদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত এবং আব্রাহাম লিংকনসহ দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ বর্তমানে যেখানে অভিযান পরিচালনা করছে, সেই ওমান উপসাগরীয় এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মাইল দূরে।
এদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা আব্রাহাম লিংকনের প্রায় ৫ হাজার নাবিকের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রণতরীটির মোতায়েনের মেয়াদ প্রায় নয় মাসে পৌঁছেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ইরানের হামলায় আব্রাহাম লিংকন সরাসরি বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছে—এমন নয়। বরং বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও লজিস্টিকস হাব ধ্বংস হওয়ায় রণতরীটির সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনায় নতুন চাপ তৈরি করেছে।