Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫ জন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম

বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫ জন

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণ ঠেকাতে চালানো বড় ধরনের আন্ডারকভার অভিযানে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামের এই অভিযানে ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার অভিযানের ফলাফল প্রকাশ করে ট্যারান্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। ট্যারান্ট কাউন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশ্বকাপ চলাকালে কয়েক দফায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৫৬ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা অনলাইনে শিশু সেজে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযুক্তরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের বয়স ৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানের অংশ হিসেবে আন্ডারকভার অফিসাররা যৌনকর্মী সেজে অনলাইনে যোগাযোগ করেন, অনলাইনে প্রকাশিত যৌনসেবার বিজ্ঞাপনের জবাব দেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক পরিচয়ে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কথোপকথন চালান। এরপর নির্ধারিত স্থানে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানটি একদিনে পরিচালিত হয়নি। আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ১৫, ১৬ ও ১৮ জুন, ফোর্ট ওর্থ পুলিশের সঙ্গে ২৯ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এবং ট্যারান্ট কাউন্টি শেরিফের অফিস ও আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালানো হয়।

জুনের মাঝামাঝি আর্লিংটনে পরিচালিত একটি অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, আন্ডারকভার অফিসারদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগের পর তারা অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে টেক্সাস আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত যৌনসেবা কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুতে আরও চারটি সরাসরি আন্ডারকভার অভিযানে একই ধরনের অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও আগে থেকে থাকা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

শিশুদের লক্ষ্য করে অনলাইনে যোগাযোগের অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অংশের তদন্তে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ডালাস ফিল্ড অফিস আন্ডারকভার অনলাইন কর্মী, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশ্লেষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, তাদের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

ফেডারেল প্রসিকিউটররাও অভিযানের কয়েকটি মামলা পর্যালোচনা করছেন। এরই মধ্যে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ করার চেষ্টার অভিযোগে ফেডারেল চার্জ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তারা এমন একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, যাকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর বলে মনে করেছিলেন। বাস্তবে সেটি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্ডারকভার অপারেশন।

অভিযানে শুধু গ্রেপ্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ইউএস অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে বিভিন্ন সহায়তা সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা আনবাউন্ড নাও জানিয়েছে, বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এসব অভিযানে শনাক্ত ১৫ জনকে তারা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জরুরি পোশাক, যাতায়াত, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, কাউন্সেলিং, শিক্ষা সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এসব সেবার অন্তর্ভুক্ত।

তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। আরও ১৪টি তদন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং কয়েকটি অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট এখনো কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে সামনে আরও গ্রেপ্তার ও নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ট্যারান্ট কাউন্টির এই অভিযানে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, ইউএস অ্যাটর্নির অফিস, এফবিআইয়ের ডালাস ডিভিশন, আর্লিংটন পুলিশ ও ফোর্ট ওর্থ পুলিশসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো বিপুল মানুষের সমাগমের বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনকে মানবপাচারকারীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, আর সে কারণেই বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ঘিরে উত্তর টেক্সাসে এর আগেও ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এবারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানের তদন্তও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার