বিজ্ঞাপন
কানাডার অন্টারিও উপনির্বাচনে মুখোমুখি দুই বাংলাদেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসন স্কারবরো সাউথওয়েস্টে এমপিপি হওয়ার লড়াই জমে উঠেছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপনির্বাচনে এই আসনে মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থী—ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ (পিসি) পার্টির ডা. নূর তরুন এবং অন্টারিও লিবারেল পার্টির আহসানুল হাফিজ।
তবে লড়াই শুধু এই দুই বাংলাদেশির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) থেকে ফাতিমা শাবান এবং গ্রিন পার্টি থেকে মার্ক বেকারিংও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে আসনটিতে মূলত চার দলের প্রার্থী থাকলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে নূর তরুন ও আহসানুল হাফিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
স্কারবরো সাউথওয়েস্ট টরন্টোর একটি বহুজাতিক এলাকা। এখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, এ আসনে প্রায় ৮ হাজার ৫০৫ জন নিজেদের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ।
এ কারণে এবারের উপনির্বাচনে বাংলাদেশি ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই কমিউনিটি থেকে দুই শক্তিশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কে বাংলাদেশি ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন আদায় করতে পারেন, তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. নূর তরুন দীর্ঘদিন ধরে স্কারবরোতে চিকিৎসক ও কমিউনিটি নেতা হিসেবে পরিচিত। পিসি পার্টির তথ্য অনুযায়ী, তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্কারবরোর সঙ্গে যুক্ত। গ্রেটার টরন্টো এলাকায় তার ছয়টি মেডিকেল ক্লিনিক ও একটি স্পেশালিস্ট সেন্টার রয়েছে।
গত ১০ জুলাই অন্টারিও পিসি পার্টি তাকে স্কারবরো সাউথওয়েস্ট উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করে। প্রিমিয়ার ও পিসি নেতা ডাগ ফোর্ডও তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
নূর তরুনও রাজনীতিতে নতুন নন। ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তিনি একই এলাকার কনজারভেটিভ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ফলে এলাকার ভোটার, রাজনৈতিক কর্মী ও স্থানীয় ইস্যুগুলোর সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় রয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হওয়ায় প্রাদেশিক সরকারের সাংগঠনিক শক্তিও তার প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পিসি পার্টি অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং কমিউনিটির নিরাপত্তার মতো বিষয়কে সামনে রেখে তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে লিবারেল প্রার্থী আহসানুল হাফিজ বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে কানাডায় পাড়ি জমান। তার প্রচারণার জীবনী অনুযায়ী, তিনি ইউনিভার্সিটি অব উইন্ডসর থেকে গণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনে পিৎজা ডেলিভারির কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। বর্তমানে অন্টারিওজুড়ে একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। তার প্রচারণা ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৩০টি ডমিনোজ স্টোরের মালিক ও অপারেটর।
রাজনীতিতেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লিবারেল পার্টি অব কানাডা (অন্টারিও)-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটি ও যুব ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পথটি তার জন্য সহজ ছিল না। গত ৯ মে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় তিনি ফেডারেল এমপি নেট এরস্কিন-স্মিথকে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। পরে এরস্কিন-স্মিথ মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আপিল করেন। তবে অন্টারিও লিবারেল পার্টির আপিল কমিটি অভিযোগ ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে কোনো এমন অনিয়ম খুঁজে পায়নি, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হাফিজকেই বিজয়ী হিসেবে বহাল রাখা হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আসন?
স্কারবরো সাউথওয়েস্ট দীর্ঘদিন ধরে এনডিপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সাল থেকে এই আসনের প্রাদেশিক এমপিপি ছিলেন ডলি বেগম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করে ফেডারেল লিবারেল পার্টির হয়ে একই এলাকার উপনির্বাচনে অংশ নেন এবং ১৩ এপ্রিলের নির্বাচনে জয়ী হন। তার পদত্যাগের পরই প্রাদেশিক আসনটি শূন্য হয়।
এবার সেই আসন ধরে রাখতে মাঠে নেমেছে এনডিপি। দলটির প্রার্থী ফাতিমা শাবান। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন পিসি পার্টি এনডিপির কাছ থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিতে চায়। লিবারেলরা চাইছে ডলি বেগমের সাম্প্রতিক ফেডারেল জয়ের ধারাবাহিকতা প্রাদেশিক নির্বাচনেও কাজে লাগাতে।
এই ত্রিমুখী রাজনৈতিক সমীকরণই এবারের নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
লড়াইয়ে বড় ফ্যাক্টর এনডিপি
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নূর তরুন বনাম আহসানুল হাফিজের লড়াই নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন এনডিপির ফাতিমা শাবান। কারণ সর্বশেষ প্রাদেশিক নির্বাচনে আসনটি এনডিপির দখলে ছিল এবং এখানে দলটির শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে।
এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলসও আসনটিতে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণাকে দলটি গুরুত্ব দিচ্ছে।
লিবারেলদের জন্যও লড়াই সহজ নয়। অন্টারিও লিবারেল পার্টির অন্তর্বর্তী নেতা জন ফ্রেজার জানিয়েছেন, স্কারবরো সাউথওয়েস্টে তাদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে তার দাবি, আহসানুল হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং দলীয় কর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।