বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আইনজীবীর অফিসে আইসিই পরিচয়ে হানা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোয় একটি ইমিগ্রেশন ল ফার্মে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) আইসিই (ICE) এজেন্ট পরিচয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। শুক্রবার সকালে নর্থ নাটোমাসের ওই ভবনে অন্তত চারটি গাড়িতে করে আসা এই ব্যক্তিরা দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে তাদের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।
ওই তালিকায় থাকা অনেক ক্লায়েন্ট এই ল ফার্মের ঠিকানা ব্যবহার করছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। ভবনে অভিবাসীদের জন্য কোনো বিছানা পাতা আছে কি না, তা তল্লাশির নামে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে কোনো আইনি ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
মরিস ল গ্রুপের মালিক রাইসা মরিস জানান, সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে তার এক কর্মী টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তাকে এই সশস্ত্র ব্যক্তিদের উপস্থিতির কথা জানান। আইসিই ব্যাজ পরা এক ব্যক্তি সরাসরি রিসেপশনে এসে অফিস ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চান। মরিস তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীদের নির্দেশ দেন যে, ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে যেন ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া হয়।
এ সময় বাধা পেয়ে ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন যে, পরবর্তী নির্দেশ পেলে তারা রাত ৩টার দিকে এসে জানালা ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করবেন। রাইসা মরিস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের ক্লায়েন্টরা, বিশেষ করে অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিতভাবেই আইনি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাকে নিজেদের মেইলিং অ্যাড্রেস বা চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেন।
তার প্রতিষ্ঠানে এমন দুই হাজারেরও বেশি ক্লায়েন্ট রয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তিনি তার কর্মী ও ক্লায়েন্টদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনাটি দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে চলার পর ভবনের ম্যানেজার ও ডেন্টিস্ট ড্যানিয়েল আজুরদুই সেখানে পৌঁছান। তিনি ওই ব্যক্তিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ওয়ারেন্ট ছাড়া তাদের এই অবস্থান বেআইনি অনুপ্রবেশের শামিল এবং তিনি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবেন। এর পরপরই তারা সেখান থেকে চলে যান। পুরো ঘটনাটি নিয়ে ইউসি ডেভিস ল-এর অধ্যাপক এবং ইমিগ্রেশন আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ কেভিন জনসন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, নথিপত্রহীনদের তথ্য সংগ্রহের নামে ওয়ারেন্ট ছাড়া ইমিগ্রেশন ল ফার্মে ঢুকে বিছানা খোঁজার চেষ্টার কথা তিনি আগে কখনো শোনেননি। আইনজীবীরা সাধারণ মানুষের চেয়ে আইন সম্পর্কে বেশি জানেন, তাই সেখানে ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশির চেষ্টা শুধুই সময় নষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই হয়রানিমূলক ঘটনার বিষয়ে আইসিই বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।