Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে! লিখে নিজেকে শেষ করলেন রাজনীতিবিদ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে! লিখে নিজেকে শেষ করলেন রাজনীতিবিদ

বিজ্ঞাপন

দলীয় কার্যালয় থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক ও বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সঙ্গে এক পাতার একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গেছে।

সুইসাইড নোটে সাবেক এই বিধায়ক লিখেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। নিজের রাজনীতিতে আসা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের কাউকে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সাও কোনো কাজের বিনিময়ে নিইনি।’

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।’

শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত আশিস ছাত্রছাত্রীদেরও স্মরণ করে প্রবীণ নেতা লিখেছেন, সারা জীবন শিক্ষকতা করেছি। কোনও দিন ক্লাস ফাঁকি দিইনি। স্পেশাল ক্লাস নিয়েছি। ছাত্রদের অনেককে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। ওদের প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি। এর পর পরিবারের সদস্যদের নাম করে করে তাঁদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস।

শেষে লিখেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। চিঠিতে রাজনীতিতে যুক্ত কারও নাম উল্লেখ করেননি আশিস। সরাসরি কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনেননি। কে বা কারা তাকে অপমান করার চেষ্টা করেছেন, তা-ও খোলসা করেননি।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। পাঁচবারের বিধায়ক এই নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভায়ও একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাজ্যের সাবেক স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার