Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

মুসলিম হওয়ায় ১৭ দিন ধরে পানি-বিদ্যুৎহীন কলকাতার ৫০০ পরিবার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

মুসলিম হওয়ায় ১৭ দিন ধরে পানি-বিদ্যুৎহীন কলকাতার ৫০০ পরিবার

বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগের মধ্যেই কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৭ দিন ধরে কলোনির প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন এই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এসব পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে কলোনিতে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও অনেক ল্যাম্পপোস্টে এখনো বিদ্যুৎ নেই বলে অভিযোগ তাদের। ফলে রাতের বেলায় চলাচলসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেক পরিবার ৫০ থেকে ৬০ বছর, আবার কেউ কেউ প্রায় ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও মৌলিক নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার এখন কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তবে নদীতে বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি মেশার কারণে এই পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

কলোনিতে পাঁচটি পানির কল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব কলের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণে তাদের ওপর ক্ষোভ থেকে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিমদের ভোট না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই বক্তব্যের পর তাদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে যে ভোটের কারণে তাদের এলাকার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।

তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে বিধায়কের ওই বক্তব্য বা কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে কলোনি উচ্ছেদের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও দিনমজুর পরিবারগুলো। দ্রুত পানি সরবরাহ পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা।

নাগরিক সুবিধা বন্ধের প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার