বিজ্ঞাপন
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৮ এএম
বিজ্ঞাপন
খুব শিগগিরই হয়তো সাধারণ চুইংগাম চিবানোর মতোই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের বিশেষ চুইংগাম তৈরি করেছেন, যা ওরাল বা মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী তিনটি জীবাণুকে আক্রমণ করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, যা যৌনবাহিত সবচেয়ে সাধারণ একটি সংক্রমণ। লালারসের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই চুইংগামটি ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ভাইরাস ধ্বংস করতে কার্যকর।
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া স্কুল অব ডেন্টাল মেডিসিন-এর অধ্যাপক হেনরি ড্যানিয়েলের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমন একটি অ্যান্টিভাইরাল বা ভাইরাসরোধী প্রোটিনের সন্ধানে কাজ শুরু করেছিলেন, যা বিভিন্ন ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় তারা দেখতে পান, হায়াসিন্থ বিন বা ল্যাবলাব বিনে 'এফআরআইএল' (FRIL) নামের এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে।
এই প্রোটিন ভাইরাসগুলোকে একত্রে জমাট বাঁধতে বাধ্য করে, যার ফলে এগুলো সুস্থ মানবকোষে প্রবেশ করতে পারে না। শুধু তাই নয়, এই প্রোটিন আগে থেকেই কোষে প্রবেশ করা ভাইরাসগুলোকেও আটকে দিতে পারে, যা সংক্রমণকে আরও ছড়াতে বাধা দেয়। সংবাদমাধ্যমকে অধ্যাপক ড্যানিয়েল জানান, তারা মুখের ভেতরে থাকা অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
অধ্যাপক ড্যানিয়েলের মতে, এই চুইংগামে ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য ঠিক যতটুকু বিন পাউডার বা শিমের গুঁড়া প্রয়োজন, তা ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি তৈরি করতে মাত্র কয়েক পয়সা খরচ পড়ে। অত্যন্ত সুলভ মূল্যে এটি তৈরি করা সম্ভব হওয়াই এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় সুবিধা।
তিনি আরও জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য তাদের দলটি এখন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদনের পর সরাসরি মানুষের ওপর এই চুইংগামের পরীক্ষা চালানো হবে। এই ট্রায়ালটি চার সপ্তাহ ধরে চলবে, যেখানে রোগীদের দিনে তিনবার চুইংগামটি চিবানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই চুইংগামটি ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেমন রেডিয়েশন থেরাপি ও সার্জারির পাশাপাশি একটি সহায়ক থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ড্যানিয়েলের আশা, ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের লক্ষ্য রোগীদের প্রচলিত ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা নয়; বরং এই প্রাকৃতিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো ক্যানসারের পেছনে থাকা জীবাণু বা মাইক্রোবায়োমগুলোকে নির্মূল করা।